শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জুলাই, ২০১৯ ২২:২৪

মশার উৎপাত থামছে না

জয়শ্রী ভাদুড়ী

মশার উৎপাত থামছে না
রাজধানীর পচা-নর্দমার পানি থেকে মশার জন্ম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। কড়াইল বস্তিসংলগ্ন গুলশান লেক থেকে গতকাল তোলা ছবি : রোহেত রাজীব

মশার কামড়ে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। এডিস মশার কামড়ে রাজধানীতে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। মশা নিয়ন্ত্রণে কাজে আসছে না দুই সিটি করপোরেশনের ব্যবহৃত ওষুধ। ডেঙ্গু নিয়ে সিটি মেয়র থেকে শুরু করে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা সজাগ হলেও প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ৫ হাজার ৫০৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ডেঙ্গুজ্বরে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয় সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হলেও মৃতের সংখ্যা ২০ ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত ৩ থেকে ১২ মার্চ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৯৭টি ওয়ার্ডের ১০০টি জায়গায় স্বাস্থ্য অধিদফতর ডেঙ্গু নিয়ে জরিপ পরিচালনা করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৮টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬২টি স্থানে জরিপ পরিচালনা করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

ডিএনসিসির ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৪০ শতাংশ, ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০ শতাংশ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০ শতাংশ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০ শতাংশ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ শতাংশ, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ শতাংশ, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ শতাংশ, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ শতাংশ, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ শতাংশ, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ শতাংশ স্থানে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ৮০ শতাংশ, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ৭০ শতাংশ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৪০ শতাংশ, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩ শতাংশ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০ শতাংশ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ শতাংশ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ শতাংশ, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ শতাংশ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ শতাংশ, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ শতাংশ, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ শতাংশ জায়গায় এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।

জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঢাকা উত্তরের তুলনায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশি জায়গায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এজন্য এই এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই জরিপটা শুষ্ক মৌসুমে করায় তুলনামূলক কম লার্ভা পাওয়া গেছে। এখন বর্ষা শুরু হওয়ায় এডিস মশার প্রজনন এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়বে। তাই সচেতন না হলে ডেঙ্গু প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।’ এডিস মশা ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠায় কাজে আসছে না মশার ওষুধ। দুই সিটি করপোরেশনের বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচিকে পাশ কাটিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এ অবস্থায় প্রচলিত ওষুধের মাত্রা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মেডিকেল টিম গঠন করে আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ডেঙ্গু আক্রান্তদের সেবা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছে হট লাইন।

সিটি করপোরেশন ১০ বছর ধরে কীটনাশকের প্রচলিত মাত্রা ব্যবহার করে আসছে। এই ওষুধে এখন পূর্ণ বয়স্ক মশা মরছে না বলে আইসিডিডিআর’বির একটি গবেষণায় উঠে আসে। তিন বার পরীক্ষার পরও মশা না মারা যাওয়ার ঘটনায় ওষুধ সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ডিএনসিসি। তবে কোনোভাবেই থামছে না মশার উৎপাত।


আপনার মন্তব্য