শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৩৩

উদ্ভিদ উদ্যানের সুফল মিলছে না

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

উদ্ভিদ উদ্যানের সুফল মিলছে না

লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান। এটি কুমিল্লা নগরীর কোটবাড়ি সালমানপুরে অবস্থিত। ক্ষুদ্র পরিসরে এটি নির্মিত হওয়ায় গবেষণা ও বিনোদন কোনোটির কাজে আসছে না। স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী ও শিক্ষার্থীদের দাবি উদ্ভিদ উদ্যানটির আয়তন আরও বাড়ানোর।

সূত্র মতে, ঢাকার মিরপুর ও চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের পর কুমিল্লার লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান দেশের তৃতীয় বিরল উদ্ভিদ উদ্যান। ২০১৫ সালে কাজ শুরু হয়ে চলতি বছর এটির কাজ শেষ হয়। ১৭ একর আয়তনের লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ, বন্য প্রাণীর আবাস্থল তৈরি, শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, বিনোদনের ব্যবস্থা ও স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তবে আয়তন কম হওয়ায় এগুলোর বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। বর্তমান উদ্যানের পাশে বনবিভাগের ১৬ একর প্রাকৃতিক শালবাগান রয়েছে। সেটিসহ সঙ্গে আরও ৩০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হলে লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে।

লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফেজ আহমেদ জানান, এখানে ক্যাকটাস হাউস, অর্কিড হাউস, ফুলের বাগান, বিরল উদ্ভিদ বাগান, বন্যপ্রাণীর জন্য জলাশয়, বিভিন্ন প্রজাতির ঘাসের চাষ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের বসার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আরসিসি বেঞ্চ ও ব্যাঙের ছাতা সদৃশ বিশ্রামাগার।

নিকটবর্তী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কায়সার হামিদ বলেন, লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানে পাহাড়ের মাথায় ইট বিছানো পথে সবুজের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে ঝরে যাবে সব ক্লান্তি। পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনে আর বাড়ি ফিরতে মন চাইবে না। উদ্যানটি সুন্দর পরিবেশে নির্মিত হলেও আয়তনে খুবই ছোট। যে উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছে তা পূরণ হবে না। এটির আয়তন আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল করিম জানান, কুমিল্লা নগরীর এ উদ্যান নতুন প্রজন্মকে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আয়তন বাড়ানোর জন্য আমরা অধিদফতরে আবেদন জানিয়েছি। সেখানে ময়নামতি জাদুঘরের মতো ফরেস্ট মিউজিয়াম করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এদিকে আমাদের জনবলেরও অনেক সংকট রয়েছে। বর্তমান উদ্যানটি তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে চালাচ্ছি। এখানে রেঞ্জ অফিসার, বিট অফিসার, বোটানিস্ট, কিউরেটরসহ ২৫ জন লোকবল প্রয়োজন।

 


আপনার মন্তব্য