শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:১৭

শীতে করোনায় ওজন বাড়ছে

জয়শ্রী ভাদুড়ী

শীতে করোনায় ওজন বাড়ছে
শীতে মানুষের মুভমেন্ট কম। করোনা সংক্রমণের কারণেও অনেকে ঘরবন্দী। ফলে ওজন বাড়ছে নগরবাসীর। ওজন কমাতে পার্কে-ময়দানে কসরত ছবি : রোহেত রাজীব

সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন মকসুদ আলী। সূর্য ওঠার আগে দিন শুরু হয় তার। তার প্রাত্যহিক রুটিনের প্রথম কাজ রমনা পার্কে ঘড়ি ধরে এক ঘণ্টা হাঁটা এবং আধা ঘণ্টা ব্যায়াম। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে হাঁটা বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িতে অল্পবিস্তর ব্যায়াম করলেও তাতে বাগে আসেনি ওজন, উল্টো বেড়েছে। সঙ্গে মাথাচাড়া দিয়েছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা।

তিনি বলেন, গত বছরের মার্চে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বাইরে হাঁটাহাঁটি বন্ধ হয়ে গেছে। বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি থাকায় ছেলেমেয়ে বাইরে যেতে দেন না। ঘরের মধ্যে সেরকম একটা ব্যায়ামও হয় না। শীত আসার পর নানারকম পিঠাপুলি খাওয়া হয় কিন্তু শরীরচর্চা একেবারেই করা হয়ে ওঠে না। এতে ওজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকা ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে গেছে। কায়িক পরিশ্রম না থাকায় ঘুম কমে গেছে, রক্তচাপ ঊর্ধ্বমুখী। সাম্প্রতিক কিছু জরিপে দেখা গেছে, করোনাকালে ঘরবন্দী থাকা এমন ৪৮ শতাংশ লোকই বলছেন, ঘরে বসে থেকে তাদের ওজন বেড়ে গেছে। পেটে মেদ জমে দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা। মানুষের পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস, খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং জীবনধারার পরিবর্তন মানুষের ওজন বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে। লন্ডনের কিংস কলেজ এবং ইপসোস-মোরির জরিপে অংশ নেওয়া ২ হাজার ২৫৪ জনের ৪৮ শতাংশই বলছেন, করোনার এ সময় তাদের ওজন বেড়ে গেছে। একই সংখ্যক লোক বলেছেন, তারা এ সময় দুশ্চিন্তা ও বিষণতায় ভুগেছেন। এর মধ্যে ঋতুতে শীত আসায় মানুষের স্বাস্থ্যে প্রভাব আরও বেশি পড়েছে।

বেসরকারি ব্যাংক কর্মী মিরাজ আহমেদ বলেন, শীতের শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যেন অলসতা ভর করে। আগে ভোরে ঘুম থেকে উঠে দিন শুরু করলেও শীতে তা হয় না। একটু দেরি করেই ওঠা হয়। সেই সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রম কমে যায়। ঠান্ডার কারণে হাঁটা, জগিং করা হয় না ঠিকমতো। এ জন্য যে ক্যালোরি যোগ হয় তা বার্ন হয় না। ফলে তা ফ্যাট আকারে শরীরে জমা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘শীতকালে অলসতার কারণে অনেকের ওজন বেড়ে যায়। এ বছর করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে চাইলেও হাঁটতে পারছেন না। এতে ডায়াবেটিস, হরমোনসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভোগা রোগীরা পড়েছেন বিপাকে। বয়স্ক মানুষ হাঁটাহাঁটি এবং অবসর বিনোদনের সুযোগ হারাচ্ছে। তবে শীতকালে ওজন কমানোরও বুদ্ধি রয়েছে। ওজন কমাতে শীতকালীন সবজি খুব কার্যকর। এমনকি উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতেও এ খাবার বিশেষ সহায়ক। এ মৌসুমে সুষম ও কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে ওজন কমানো সম্ভব। শীতের টাটকা সবজি এবং ফলমূল খেলে সুস্থতা ও ডায়েট দুটোই হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ সময় বাজারে হাতের নাগালেই পাওয়া যায় নানা ধরনের ভেষজ প্রোটিন, কম ক্যালোরি ও অধিক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ শাক-সবজি। যার ফলে শীতে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা আরও বেশি সহজ। সবজি শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রায় সব ধরনের শাক-সবজিতেই থাকে আঁশ ও প্রচুর পরিমাণে এন্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান। এ খাবারে থাকে প্রচুর পানি, যা দেহে পানির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে।’

ওজন কমাতে যখন অনেকের হিমশিম অবস্থা তখন ৬৫ বছর বয়সেও ওজন এবং সুস্বাস্থ্য ধরে রেখেছেন মাজহার রহমান। তিনি বলেন, আমি বরাবরই খেলাধুলাপ্রিয় মানুষ। হ্যান্ডবল আমার প্রিয় খেলা। এখন নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলি। করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বাইরে হাঁটা, খেলা বন্ধ হয়ে যায়। হুট করেই আমার ওজন বেড়ে যায়। এরপর ইনডোর ব্যায়ামে জোর দিয়েছি। ওজন নিয়ন্ত্রণে ইয়োগা করছি। এখন নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় ধরে ব্যাডমিন্টন খেলে ঘাম ঝরাই। ওজন কমাতে নিয়ন্ত্রিত খাবার ও কসরতের বিকল্প নেই।


আপনার মন্তব্য