মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

রংপুরের দুঃখ শ্যামাসুন্দরী খাল

নজরুল মৃধা, রংপুর

রংপুরের দুঃখ শ্যামাসুন্দরী খাল

ময়লা-আবর্জনায় রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খালের পানির রং কালোবর্ণ ধারণ করেছে। দূষিত পানির দুর্গন্ধে খালের পাশ দিয়ে যেতে হলে নগরবাসীকে যেতে হয় নাক ধরে। এ ছাড়া খাল এখন মশা তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। নগরীর মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য খননকৃত শ্যামাসুন্দরী খালটি এখন আশীর্বাদের পরিবর্তে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বিষাক্ত পানি পরিবেশ দূষণ করে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এ অবস্থা চলছে বছরের পর বছর।  রংপুর নগরীর জলাবদ্ধতা দূর এবং ম্যালেরিয়ার হাত থেকে নগরবাসীকে মুক্ত রাখতে পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান ও ডিমলার রাজা জানকী বল্লভ সেন ১৮৯০ সালে তার মা চৌধুরানী শ্যামাসুন্দরী দেবীর নামে ক্যানেলটি পুনঃ খনন করেন। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্যামাসুন্দরী খালের সম্মুখে নগরীর কেলাবন্দের ঘাঘট নদ। এটি ঘাঘট নদ থেকে শুরু করে ধাপ পাশারী পাড়া, কেরানী পাড়া, মুন্সী পাড়া, ইঞ্জিনিয়ার পাড়া, গোমস্তা পাড়া, সেন পাড়া, মুলাটোল, তেঁতুলতলা, নূরপুর, বৈরাগী পাড়া হয়ে মাহিগঞ্জের মরা ঘাঘটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় খালটি নাব্যতা হারিয়েছে। এর দুই পাশ অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে খালটি। সামান্য বৃষ্টিতেই গোটা শহরে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। করোনার প্রকোপের আগে খালের উৎস মুখ থেকে মাহিগঞ্জ পাটবাড়ি পর্যন্ত খালের দুই পাশের প্রায় ১০ কিলোমিটার সংস্কার কাজ হাতে নেওয়া হয়।  এর জন্য আগে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় হাল জরিপ করা হয়েছে। মৌজাভিত্তিক কেল্লাবন্দ, রাধাবল্লভ, আলমনগর, রঘুনাথগঞ্জ ও ভগি এলাকার ১৭০ জনকে অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সিটি করপোরেশনে প্যানেল মেয়র মাহামুদুর রহমান টিটু বলেন, শ্যামাসুন্দরী খালসহ নগরীর জলাশয়, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।  এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছেন।  অবৈধ দখলদার কয়েকজনের আপত্তির কারণে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রয়েছে।