শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

কতদূর এগোল খাল উদ্ধার?

জয়শ্রী ভাদুড়ী

কতদূর এগোল খাল উদ্ধার?

বর্জ্য অপসারণে প্রাণ ফিরে এসেছে রাজধানীর অধিকাংশ খালে। বর্জ্যমুক্ত হাজারীবাগ খাল ছবি : জয়ীতা রায়

বাসাবাড়ির বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিক, আবর্জনায় বদ্ধ ছিল রামচন্দ্রপুর, ইব্রাহিমপুর, মান্ডা, জিরানীসহ রাজধানীর অন্যান্য খাল। দখলদারদের থাবা ও ময়লার স্তূপে ক্ষীণ হয়ে এসেছিল খালের পানি প্রবাহ। ওয়াসার কাছ থেকে খালের দায়িত্ব ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাতে আসতেই শুরু হয়েছে পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান। তিন স্তরের পরিকল্পনা ও প্রকল্প নিয়ে খাল বাঁচাতে মাঠে নেমেছে দুই সিটি করপোরেশন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা খাল উদ্ধার করতে গেলেই সীমানা নিয়ে বিভিন্ন রকমের সমস্যায় পড়ি। এ জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তারা খালের সীমানা নির্ধারণে সহযোগিতা করবে। নভেম্বরের মধ্যে তারা সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করবে। তারা সিএস, আরএস, মহানগর জরিপ নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করবে। খাল ডাস্টবিন হিসেবে নয়, পানি প্রবাহ ও যাতায়াতের জন্য ব্যবহার হবে। খাল রক্ষায় বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। খালে ময়লা ফেললে তাদের ছবি দেখে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব ছিল ঢাকা ওয়াসার। প্রতিবছর এ খাতে তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছিল, বর্ষা মৌসুমে দেখা দিচ্ছিল জলাবদ্ধতা। এ অবস্থায় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এসব খালের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াসার কাছ থেকে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনের অংশ হিসেবে খাল ও নালা পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করতে টানা অভিযান পরিচালনা করছে দুই সিটি করপোরেশন। ডিএনসিসি ২৯টি খাল থেকে বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি দখলদারদের উচ্ছেদে কাজ এবং ডিএসসিসি ১৪টি খাল ও দুটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চালাচ্ছে। জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পরে খালের বর্জ্য অপসারণে মনোযোগ দেয় দুই সিটি করপোরেশন। বর্জ্যরে কারণে খালের প্রবেশ মুখ বন্ধ হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি যেতে পারত না। এতে আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাজধানীজুড়ে দেখা দিত তীব্র জলজট। তাই সমস্যার ত্বরিত সমাধানে প্রথমে ভাসমান ময়লা ও পলি তোলার কাজ শুরু করে দুই সিটি করপোরেশন। বর্জ্য অপসারণ করে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনায় জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি চলতে থাকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ইব্রাহিমপুর খাল, রামচন্দ্রপুর খাল, গোদাখালী খাল, রূপনগর খাল, সাগুফতা খালসহ ২৯টি খাল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৬৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ওয়াসা থেকে দায়িত্ব পেয়েছিল পাঁচটি খালের। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের কারণে অনেক খাল ফিরতে শুরু করে আগের অবস্থায়। খালের বর্জ্য অপসারণ হওয়ায় এ বছর জলজট ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি নগরবাসীকে। বর্ষার মৌসুম শেষ হওয়ার পরে বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি খালের জমি উদ্ধারে চলছে কার্যক্রম।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও মুখপাত্র আবু নাসের জানান, ‘জিরানী খাল, মান্ডা খাল, শ্যামপুর খাল, বাসাবো খাল, তিতাস খাল, কাজলা খাল, কামরাঙ্গীর চর খাল, পান্থপথ বক্সকালভার্ট ও সেগুনবাগিচা বক্সকালভার্ট থেকে এ পর্যন্ত বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৭৪০ টন এবং খাল থেকে পলি অপসারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ১২ হাজার ৯৫০ টন। দুই বক্স কালভার্ট পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়েছে। খালের বর্জ্য অপসারণ করায় জলজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি নগরবাসীকে। প্রাণ ফিরে পেয়েছে খালগুলো।’ তবে জিরানী খালের এক পাশে ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলা হয়েছে। ভাগাড়ের ময়লা ধীরে জলে যাচ্ছে খালের ভিতরে। এভাবে ময়লা ফেলে খাল ভরাটের চেষ্টা চলছে বলে জানান এলাকাবাসী।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর