Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০৯
পাহাড়ে জনপ্রিয় খাবার কোঁড়ল উজাড় হচ্ছে বাঁশসম্পদ
বান্দরবান প্রতিনিধি
পাহাড়ে জনপ্রিয় খাবার কোঁড়ল উজাড় হচ্ছে বাঁশসম্পদ
বাঁশকোঁড়লের পসরা বসিয়ে বান্দরবান বাজারে বিক্রি করছেন কৃষাণীরা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

পার্বত্যাঞ্চলে উপজাতি জনগোষ্ঠীর কাছে প্রিয় সবজি বাঁশকোঁড়ল (কচি বাঁশ)। পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে বাঁশ বাগানে জন্ম নেওয়া নতুন নতুন বাঁশের অঙ্কুরকে স্থানীয় ভাষায় বাঁশকোঁড়ল বলা হয়।

সবজি হিসেবে খুবই সুস্বাদু; তাই বাঙালিদের খাদ্যের তালিকায়ও যুক্ত হয়েছে এটি। অঙ্কুর থেকে বাঁশে পরিণত হওয়ার আগেই পাহাড় থেকে সংগ্রহ করে প্রতিদিন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে বাঁশকোড়ল। অবাধে বাঁশকোঁড়ল নিধন রোধে স্থানীয় বন বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় দিন দিন এটির নিধন বেড়েই চলছে। দেশে জনসংখ্য বৃদ্ধির সঙ্গে বাঁশের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও উৎপাদন বৃদ্ধি হয়নি। বরং সবজির তালিকায় কচি বাঁশ সংযুক্ত হওয়ায় দিন দিন বাঁশ হ্রাস পাচ্ছে। পার্বত্যাঞ্চলে বাঁশের ওপর নির্ভর করে গড়ে তোলা হয়েছিল দেশের বিখ্যাত চন্দ ঘোনা পেপার মিল। বাঁশ ও কাঁচামালের অভাবে প্রতিনিয়ত বন্ধ রাখতে হয় দেশের বৃহৎ পেপার উৎপাদনকারী এ প্রতিষ্ঠান। একদিকে উজাড় হচ্ছে বাঁশ অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। সূত্র মতে, গত ৫ বছরে জেলার ছয় কোটিরও বেশি বাঁশ অঙ্কুরেই স্থানীয়রা সাবাড় করেছে। এভাবে খাবারের নামে বাঁশকোঁড়ল নিধন অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পার্বত্যাঞ্চল থেকে বাঁশসম্পদ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতি ৪০-৫০ বছর পরপর বাঁশে ফুল এসে বাঁশ ঝাড়ে মরে যাওয়ায় বাঁশের বংশ বৃদ্ধিতে এ আরেক বড় বাধা। বন বিভাগ জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে মিতিংঙ্গা, মুলি, টেংরা, দুলু, কালী ও ছোটিয়াসহ আরও কয়েক প্রজাতির বাঁশ জন্মায়। বর্ষা মৌসুমে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বাঁশের বংশ বৃদ্ধি হয়। স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর খাদ্য তালিকায় বাঁশকোঁড়ল সবজি ছাড়াও বিশেষ ধরনের স্যুপ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাঁশকোঁড়ল। বান্দরবান পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বিপুল কৃষ্ণ দাশ জানান, বাঁশকোঁড়ল পাহাড়িদের প্রিয় খাবার। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা না থাকায় আমরা কিছু করতে পারি না। তবে বাঁশকোঁড়ল কাটা বন্ধ করতে পারলে যেমন দেশে বাঁশের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব হারও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। বান্দরবান মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম জানান, অপরিকল্পিত জুম চাষ, ঝিড়ি-ঝরনাসহ পানির উৎসস্থলগুলো শুকিয়ে যাওয়া এবং পাহাড় থেকে নতুন বাঁশেরকোঁড়ল সংগ্রহ করে সবজি হিসেবে ব্যবহার করায় বাঁশের উৎপাদন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। খাবারের তালিকায় বাঁশকোঁড়ল রোধ করা না গেলে কাঁচামাল সংকটে পড়তে পারে দেশের বিখ্যাত চন্দ ঘোনা পেপার মিল। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলতাফ হোসেন জানান, আদিকাল থেকে বাঁশকোঁড়ল পাহাড়িদের জনপ্রিয় খাদ্য। ইদানীং বাঙালিদের খাবার তালিকায় বাঁশেরকোঁড়ল স্থান করে নেওয়ায় বাঁশ সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বাঁশকোঁড়লের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাঁশের উৎপাদন হ্রাস পেয়ে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।  

এই পাতার আরো খবর
up-arrow