Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪০
অস্তিত্ব রক্ষায় নেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ
জিন্নাতুন নূর

খুব বেশিদিন আগের কথা নয় যখন মানুষ তার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের খোঁজ নিতে চিঠিকে একটি বিশ্বস্ত বাহন হিসেবে ব্যবহার করত। আর হাতে  লেখা চিঠির আবেদনও ছিল অন্যরকম। প্রযুক্তির কল্যাণে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে এখন মানুষ

ই-মেইল বা কুরিয়ার সার্ভিসেই তার প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন। আর ধীরগতি ও জনবল, যানবাহন সমস্যা ও পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী ডাক বিভাগ বেসরকারি কুরিয়ার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। আধুনিক সময়ে এসে মানুষের চাহিদা বিবেচনায় এনে ও প্রতিযোগিতায় টিকতে সরকার তাই রুগ্ন ও পিছিয়ে পড়া এই সংস্থাকে টেনে তুলতে একগুচ্ছ আধুনিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

জানা যায়, দেশের ডাকঘরগুলোর আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও ইমেজ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ডাক বিভাগের আধুনিকায়নের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে আছে— মোবাইল মানি অর্ডার সার্ভিস, পোস্টাল ক্যাশ কার্ড সার্ভিসের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পরিশোধ, পুরনো ডাকঘরের বদলে পোস্ট ই-সেন্টার নির্মাণ, নতুন ভ্রাম্যমাণ ডাকঘর তৈরি, ই-পোস্ট সেবাসহ দ্রুত সেবা দিতে কেনা হচ্ছে ২০০টি পরিবহন। সংশ্লিষ্টরা জানান, ডাক বিভাগ আধুনিকায়নের যে প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে জনগণ অধিকতর উন্নত ডাকসেবা পাবে এবং গ্রাহকরা ঘরে বসেই ট্র্যাকিং অ্যান্ড ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে চিঠির সর্বশেষ অবস্থানসহ যাবতীয় তথ্য জানতে পারবে।

পোস্ট ই-সেন্টার : ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সংসদে জানান, দেশের আট হাজার গ্রামীণ পোস্ট অফিস ও ৫০০টি উপজেলা ডাকঘরকে ই-সেন্টার রূপান্তরের কাজ শুরু করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ‘পোস্ট-ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি’ প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ৫ হাজার ৫০৬টি ডাকঘরে ই-সেন্টার চালু করা হয়েছে। সেই ভবনগুলোর একটি কক্ষে ডাকঘর এবং অপর কক্ষে পোস্ট ই-সেন্টার স্থাপন করা হবে। ‘আর ডাকঘর আধুনিকায়নে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন টেলিটকেরও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণত পোস্ট ই-সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহার করে বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল, কৃষি, শিক্ষা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য জানা যাবে। এ ছাড়া ওয়েব ক্যামেরা ব্যবহার করে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথোপকথনের সুবিধা, বিদেশ থেকে আগত রেমিট্যান্স সুবিধা দেওয়া হবে।

ই-পোস্ট সেবা : মূলত ২০০০ সালের আগস্ট থেকেই ডাক বিভাগ ‘ই-পোস্ট’ নামে ইলেকট্রনিক ডাক সেবা প্রবর্তন করে। দেশের অভ্যন্তরে সংবাদ প্রেরণ ও গ্রহণ ছাড়াও স্কানিংকৃত ছবি ই-পোস্টের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। বর্তমানে ঢাকা জিপিও, চট্টগ্রাম জিপিও, সিলেট প্রধান ডাকঘর, মৌলভীবাজার প্রধার ডাকঘর, ফেনী প্রধান ডাকঘর, কুমিল্লা প্রধান ডাকঘর, নোয়াখালী প্রধান ডাকঘর, ময়মনসিংহ প্রধান ডাকঘর, যশোর প্রধান ডাকঘর, কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘর, বরিশাল প্রধান ডাকঘর, বগুড়া প্রধান ডাকঘর, সিরাজগঞ্জ প্রধান ডাকঘর এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ডাকঘরে এই সুবিধা পাওয়া যায়।

বাড়ছে পরিবহন সুবিধা : বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের সঙ্গে জনপ্রিয়তায় টিকতে সড়কপথের সেবা বাড়ানোরও উদ্যোগ নিয়েছে ডাক বিভাগ। এ জন্য ১১৮টি গাড়িসহ মোট ২০০টি পরিবহন ক্রয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে ডাক বিভাগ। সরকার এরই মধ্যে এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

অবকাঠামোগত পরিবর্তন : ইতিমধ্যে জরাজীর্ণ ডাকবিভাগের নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ প্রকল্প কাজ চলমান আছে। ভাঙাচোরা, রঙিন কিংবা ভঙ্গুর দেয়ালের পরিবর্তে আধুনিক সুবিধা সংবলিত ডাকঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে একশর অধিক পুরনো ডাকঘর নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে ডাক বিভাগের সদর দফতর। এতে হাইটেক ও আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা থাকবে। আগামী বছর এর কাজ নির্মাণ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যান্য উদ্যোগ : ডাক বিভাগের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়করণ প্রকল্পের আওতায় ডাক বিভাগের কাউন্টার সার্ভিসসমূহ অটোমেশন করা হচ্ছে। এর ফলে এই বিভাগের বিভিন্ন সার্ভিস একীভূত হয়ে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এরই মধ্যে প্রায় ১০০টি ডাকঘরে ডাক বিভাগের কার্যপ্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়করণ করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে আর এক হাজার ৪৩৮টি ডাকঘর স্বয়ংক্রিয়করণ করা হবে। এ ছাড়া চলতি বছরের মধ্যে সারা দেশে সাড়ে ৬ হাজার পোস্টাল ক্যাশ চালুর পরিকল্পনা আছে। বর্তমানে পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের ৮টি এটিএম বুথ চালু আছে যা চলতি বছরের মধ্যে ১৩টি করার পরিকল্পনা আছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ডাক বিভাগের ইলেকট্রিক সার্ভিসসমূহের ডাটা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য ২০১৮ সালের মধ্যে যশোর ডাক বিভাগে কেন্দ্রীয় ডাটা রিকভারি সেন্টার নির্মাণ করা হবে। মেইল সংগ্রহ ও বিতরণে আধুনিকরণ, ডাকঘরে আর্থিক লেনদেন ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে করার জন্য ৫০ হাজার পিওএস মেশিন ও ৫০ হাজার ফিঙ্গার ভেইন ডিভাইস স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া পোস্ট অফিস সেভিংস ব্যাংক আধুনিক করা হবে। পাশাপাশি ১০ হাজার জীবন বীমা বুথ স্থাপন করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow