১ জুলাই, ২০২২ ১৯:৫২

ঢেঁড়স ক্ষেতে মোজাইকের হানা, লক্ষ্মীপুরে শতাধিক চাষি দিশেহারা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

ঢেঁড়স ক্ষেতে মোজাইকের হানা, লক্ষ্মীপুরে শতাধিক চাষি দিশেহারা

লক্ষ্মীপুরে ৩ গ্রামের শতাধিক কৃষকের চাষাবাদকৃত অন্তত ২০ একর ঢেঁড়স ক্ষেতে হানা দিয়েছে মোজাইক ভাইরাস। ভাইরাসের প্রভাবে এসব এলাকার ঢেঁড়স গাছ-পাতা ও ফলন হলুদবর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এখন। শুধু তাই নয় আশে পাশের অন্যান্য ফসলের মাঠেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। এতে করে কৃষকরা বড় ধরণের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ে বর্তমানে চরম হতাশা ও দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। নিম্মমানের বীজ দামি হিসেবে উচ্চমূল্যে সরবরাহ করার অভিযোগ করেন তারা। তবে দোকানীরা বলছেন আবহাওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে সাধারণত মানহীন বীজ থেকেই ভয়ঙ্কর এ ভাইরাস ছড়ায়। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।   

জানা যায়, কয়েক বছরের ভালো ফলনে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ঢেঁড়সের আবাদ করেছেন লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা। চলতি বছর জেলায় দুই হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। এসব ফসল বিক্রি করে পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ ও ভালো থাকার আশা ছিল তাদের। কিন্তু না তা আর হলো না। ফলনের মূহূর্তে এসে ভেঙ্গে গেল তাদের স্বপ্ন পূরণের সেই প্রত্যাশা। লক্ষ্মীপুর সদরের টুমচর, কালিরচর ও ভবানীগঞ্জ গ্রামের শতাধিক চাষী প্রায় ২০ একরে ঢেঁড়স চাষ করে এখন বিপাকে পড়েছেন। তাদের কৃষি মাঠে বর্তমানে হানা দিয়েছে মোজাইক ভাইরাস। এর প্রভাবে ঢেঁড়স গাছ-পাতা ও ফলন হলুদবর্ণ হয়ে পঁচে যাচ্ছে। এতে করে বাজারে এসব ফলন বিক্রি হচ্ছেনা। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে এখন।

চাষিরা অভিযোগ করে বলেন, বাজারের দোকানীরা নিম্মমানের বীজ দামি প্যাকেটজাত করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এতে করে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মাঠের পর মাঠ ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আশে পাশের বটবটি-করলা ও শষা ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসলের মাঠেও এর প্রভাব পড়ছে। তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এসব চাষিরা প্রতারক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ সরকারের সহায়তা দাবি করেন।

জেলা শহরের একাধিক বীজ ভান্ডারের (বীজ বিক্রেতা) সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, আবহাওয়ার কারণে ফসলে ভাইরাস আক্রমণ করেছে। নিম্মমানের বীজ প্যাকেটজাত করে বেশি দামে বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন তারা।  

এদিকে সচেতন মহল বলছেন, বীজ ব্যবসায়ীদের উপর নজরদারী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি থাকলে নিম্মমানের বীজ উচ্চমূল্যে বিক্রি করার সুযোগ থাকবে না।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. জাকির হোসেন বলেন, ছোট ছোট পোকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি ছড়ায়। এটি যদি ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে তা হলে পুরো ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে ফেলে। তবে, পরপর দুই বছর একই জমিতে একই ফসল চাষ না করা এবং এই বছর যে জমিতে ঢেঁড়স চাষ করা হয়েছে, আগামী বছর ওই জমিতে অন্য ফসল করলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি জৈব সারও ব্যবহার করতে হবে। বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এ কর্মকর্তা।  

 
বিডি প্রতিদিন/হিমেল

সর্বশেষ খবর