পবিত্র মাহে রমজান সংযম, ত্যাগ ও সহমর্মিতার মাস। এই পবিত্র মাসে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ পীরগঞ্জ উপজেলা শাখা। সংগঠনটির উদ্যোগে এক মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পেয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর সরকারপাড়ার পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতদরিদ্র নারী মোছা. মেরিনা। মঙ্গলবার পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বরে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মেরিনার হাতে তুলে দেন পুরো মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।
মেরিনা দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। তার স্বামীও শারীরিকভাবে অসুস্থ ও উপার্জনে অক্ষম। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে চলা এই পরিবারটির জন্য রমজান মাসের ব্যয়ভার বহন করা হয়ে উঠেছিল প্রায় অসম্ভব। এমন মানবিক বাস্তবতায় তাদের পাশে দাঁড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ।
সহায়তার তালিকায় ছিল চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলা, খেজুর, কাঁচা সবজি ও বিভিন্ন ফলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। আয়োজকরা জানান, রমজানের পুরো মাস যেন তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে রোজা পালন করতে পারেন-এই লক্ষ্য নিয়েই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব-এর সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক নশরোদে খোদা রানা, বসুন্ধরা শুভসংঘ পীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি তারেক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দুলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান মানিক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফাইদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক বেলাল হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক নোসিন আবরার লাবণ্য, সদস্য রাহত, হৃদয়, রুবেল, সবুজসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, পীরগঞ্জে মানবিক কার্যক্রমে বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় কর্মহীন অসংখ্য মানুষের মাঝে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে সংগঠনটি ব্যাপক সাড়া জাগায়। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই শুভসংঘ নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
খাদ্যসামগ্রী পেয়ে আবেগাপ্লুত মেরিনা বলেন, “আমার অভাবের সংসারে রোজার মাসে ঠিকমতো চলতে পারছিলাম না। শুভসংঘের সদস্যরা আজ আমাকে যে খাদ্যসামগ্রী কিনে দিয়েছেন, তাতে আমি খুবই উপকৃত হলাম। এখন ঠিকভাবে রোজা আদায় করতে পারব।”
তিনি এ মানবিক সহায়তার জন্য শুভসংঘের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রমজানের পবিত্রতায় মানবিক সহমর্মিতার এমন উদ্যোগ পীরগঞ্জবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বসুন্ধরা শুভসংঘের বন্ধুরা।
বিডি-প্রতিদিন.তানিয়া