বসুন্ধরা শুভসংঘ-এর আইইউবিএটি শাখার উদ্যোগে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার অনন্য আবহে সম্পন্ন হয়েছে ইফতার মাহফিল ও ইফতার বিতরণ কর্মসূচি। পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্যকে ধারণ করে শাখার সদস্যরা দিনব্যাপী প্রস্তুতির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন।
মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনটি স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করা হয়। প্রতিটি টিম আলাদাভাবে রাজধানীর কামারপাড়া, রানাভোলা ও উত্তরা সেক্টর ১০ এলাকায় গিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল পারস্পরিক সহযোগিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মানবিক চেতনার উজ্জ্বল প্রকাশ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন শাখার উপদেষ্টা মো. ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, “রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। আজ শিক্ষার্থীরা যে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা একটি সহমর্মিতাপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পারব।”
সহউপদেষ্টা তন্ময় শিকদার বলেন,“আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে, তরুণরা চাইলে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত, এবং আমি শাখার প্রতিটি সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
সংগঠনের মেন্টর (একাডেমিক) জুহি জান্নাত মিম তার বক্তব্যে বলেন, “মানবিক কাজের মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ। আজ আমরা যে হাসিমুখ দেখেছি, সেটিই আমাদের প্রেরণা হয়ে থাকবে।”
মেন্টর ( প্রশাসন) মাহতাব হোসেন নাইম বলেন, “এই ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি।”
শাখার সভাপতি দীপ্ত পাল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি মানবিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে সবাই মিলেই সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে। আজকের সফল আয়োজন আমাদের সেই পথচলাকে আরও শক্তিশালী করেছে।”
সহ সভাপতি শাকিল শিকদার বলেন, “ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই আমাদের শক্তি। আজকের আয়োজন সেই ঐক্যেরই প্রতিফলন।”
সাধারণ সম্পাদক নাফিজ হাসান বলেন, “সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজকের কর্মসূচি সফল হয়েছে। আমরা চাই, এই ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে পরিচালিত হোক।”
সাংগঠনিক শামীম আহম্মেদ ফাহিম বলেন, “পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন- প্রতিটি ধাপে সদস্যদের আন্তরিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সবার সহযোগিতায় আমরা সুন্দরভাবে আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরেছি।”
দপ্তর সম্পাদক অপূর্ব দাশ তূর্য বলেন,“সঠিক সমন্বয় ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমাদের ভবিষ্যতের উদ্যোগগুলো আরও সফল করতে সহায়তা করবে।”
শাখার সাধারণ সদস্য, কার্যনির্বাহী সদস্য, উপদেষ্টা ও মেন্টর প্যানেলের সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজনটি হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ ও হৃদয়ছোঁয়া। ভবিষ্যতেও সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া