রাজধানী ঢাকার ভাটারা থানা এলাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে 'সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে করনীয়' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ক্রমবর্ধমান সাইবার সহিংসতা ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার ভাটারা থানা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে 'সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস) এর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. রশিদুল হাসান।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. রশিদুল হাসান বক্তব্যে বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন প্ল্যাটফর্ম’র তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে যারা সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছে, তাদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই নারী ও শিশু। ভুক্তভোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৬ শতাংশ নারী, ২১ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাশিশু ও তিন শতাংশ পুরুষ।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, এমনকি সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিবারেও নারী ও শিশুরা নিরাপদ নয়। তারা প্রতিনিয়ত যৌন নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে মানুষের জীবনযাত্রা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি বেড়েছে অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং, ভুয়া তথ্য প্রচার, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসসহ নানা ধরনের সাইবার সহিংসতা। বিশেষ করে নারী, কিশোর-কিশোরী ও তরুণরা এসব সহিংসতার শিকার হচ্ছে বেশি। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভাটারা থানা শাখার সভাপতি মো. সাব্বির হোসেন রুপকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ভাটারা থানা শাখার সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ মিজানুর রহমান, সাদিয়া জাহান স্নেহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফরিনা আক্তার, অর্থ সম্পাদক নিশাত আফরিন সহ বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে, যেমন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং সন্দেহজনক লিংক বা বার্তা এড়িয়ে চলা। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকা।
বক্তারা আরও বলেন, সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিকে নিরাপদ ও ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভাটারা থানা শাখার সভাপতি মোঃ সাব্বির হোসেন রুপক বলেন, সাইবার সহিংসতা ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছে। সাইবার সহিংসতা শুধু ব্যক্তিগত মানসিক কষ্টের কারণ নয়; এটি অনেক সময় সামাজিক অস্থিরতা, পারিবারিক সমস্যা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকটও সৃষ্টি করে। তাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সাইবার সহিংসতার হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সচেতনতার মাধ্যমে সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে এবং একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা যাবে।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল