আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রংপুরের কারমাইকেল কলেজে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৮ মার্চ) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারীর অধিকার, সমতা ও সামাজিক অগ্রগতিতে নারীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কারমাইকেল কলেজ বসুন্ধরা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক সজীব সরকার, সদস্য সাবিকুন নাহার শিমলা এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কারমাইকেল কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম।
অন্যান্যের মধ্যে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কারমাইকেল কলেজ শাখার সহ সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস আশা, সদস্য মুশফিকুর সজীব, মিরাজ, আরিফ, তামান্না, রোদোসী, প্রান্তিক, সাজ্জাদ, শাহিন, হাসান, হাবিব,ইসমাইল, আজিজাসহ আরো অনেকে।
বক্তারা বলেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ কারমাইকেল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক সজীব সরকার বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ মাইকেল কলেজ শাখা প্রতিমাসে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীদের ক্ষমতায় নিয়ে যে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে এর মধ্য দিয়ে নারীরা সমাজে আরো এগিয়ে যাবে। একটি গাড়ির দুটি চাকা সমান না হলে যেমন গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি সমাজে নারী ছাড়া পুরুষ চলতে পারে না। তবে, বর্তমান সমাজে নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। নারীর অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী করতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
সংগঠনের সদস্য সাবিকুন নাহার শিমলা বলেন, নারীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে হবে। নারীর উন্নয়ন মানেই সমাজ ও দেশের উন্নয়ন। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে নারীদের সাথে নানা ধরনের অনৈতক কার্যক্রম ঘটছে। সরকারকে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নারীর অধিকার নিশ্চিতে রাষ্ট্রকে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কারমাইকেল কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর” জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কালজয়ী 'নারী' কবিতার এই পঙ্ক্তিটি নারী-পুরুষের সমঅধিকার ও অবদানের কথা তুলে ধরে। এই কবিতায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মানব সভ্যতার অগ্রগতি ও সৃষ্টির পেছনে নারী ও পুরুষের অবদান সমান, তাই কাউকে হেয়-জ্ঞান করা অনুচিত। ইতিহাসে দেখা যায় যে সমাজে নারীরা শিক্ষা ও নেতৃত্বের সুযোগ পেয়েছে, সেই সমাজ দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়েছে। তাই নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সমতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে একটি বৈষম্যহীন ও প্রগতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
আলোচনা সভা শেষে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ ও জাতির কল্যাণসহ শিক্ষার্থীদের মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল