দ্বীপজেলা ভোলার মনপুরা উপজেলায় না খেয়ে রোজা রাখা সেই অসহায় মরিয়ম বেগমকে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও ঈদসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘ মনপুরা উপজেলা শাখার সদস্যরা অসহায় মরিয়ম বেগমের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও ঈদসামগ্রী তুলে দেন।
মনপুরা উপজেলার ২ নং হাজিরহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন কলনিতে বসবাস করেন মরিয়ম বেগম। বয়সের ভার আর দারিদ্র্যের কষাঘাতে জীবন তার হয়ে উঠেছে কঠিন সংগ্রামের আরেক নাম। দুই ছেলে সন্তান থাকা সত্ত্বেও তাদের কারও কাছ থেকে খোঁজখবর বা সহায়তা পান না তিনি। একাই একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন। পরিধানের মতো বাড়তি জামা-কাপড় নেই। প্রতিবেশীরা কেউ কেউ সহানুভূতির হাত বাড়ালে তবেই কোনোভাবে চলে তার দিন।
চলমান পবিত্র রমজান মাসে তার কষ্ট যেন আরও প্রকট হয়ে ওঠে। অনেক দিন না খেয়ে বা অল্প খেয়েই রোজা রাখেন মরিয়ম বেগম। কখনো পাশের বাসা থেকে সেহেরির খাবার জোটে, কখনো ইফতার করেন প্রতিবেশীর দেওয়া সামান্য খাবার দিয়ে।অভাবের মাঝেও তিনি রোজা পালন থেকে বিরত হননি, এই দৃঢ়তা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি তার পরিস্থিতি হৃদয় বিদারক।
মরিয়ম বেগমের এমন দুর্দশার খবর পেয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে মরিয়ম বেগমকে এক মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং ঈদ সামগ্রী প্রদান করা হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে তাকে চাল মুড়ি, বুট, চিড়া, চিনি, ট্যাং, সেমাই, দুধ, খেজুর, কিস মিস, নুডলস, সুজি, আলু, মসুর ডাল, তেল, হলুদ, মরিচ, চিকন লবন, সাবান, পেঁয়াজ, রসুন, মসলাসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য তুলে দেওয়া হয়, যাতে অন্তত রমজান মাসে তাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে না হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ মনপুরা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সোয়েব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিহাদ মুন্সী, সাংগঠনিক সম্পাদক তামজিদ আহমেদ সামি, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক জাফরুল ইসলাম আয়াত, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. সিয়াম, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল আহাদসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা।
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও ঈদসামগ্রী পেয়ে অসহায় মরিয়ম বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, 'আমি অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাই, ঠিকমতো খেয়েও থাকতে পারি না। রমজান মাসে রোজা রাখি, কিন্তু সাহরি ও ইফতার করার মতোও সব সময় কিছু থাকে না। এমনকি না খেয়েও রোজা রাখতে হয়। আজ বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে যে খাদ্যসামগ্রী পেয়েছি, তাতে আমি খুবই খুশি এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য দোয়া করি, তারা যেন সবসময় গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকতে পারে।'
বসুন্ধরা শুভসংঘ মনপুরা উপজেলা শাখার সভাপতি ফজলে রাব্বি বলেন, 'পবিত্র রমজান মাস আমাদের সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করা। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘ বিভিন্ন মানবিক কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে।'
বসুন্ধরা শুভসংঘ মনপুরা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সোয়েব বলেন, 'আমাদের আশপাশে অনেক মরিয়ম বেগম রয়েছেন, যারা লজ্জা ও সংকোচে কারও কাছে হাত বাড়ান না। তাদের খুঁজে বের করে সহযোগিতা করাই বসুন্ধরা শুভসংঘের অঙ্গীকার। রমজানের পবিত্র মাসে অসহায় মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে সেটিই আমাদের বড় প্রাপ্তি। বসুন্ধরা শুভসংঘ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে সর্বদা কাজ করে যাবে।'
স্থানীয়রা বলেন, 'অসহায় মরিয়ম বেগমের এই কঠিন সময়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও ঈদসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয় ও মানবিক। এই সহায়তা পেয়ে তিনি যেমন স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনি এলাকার মানুষও আনন্দিত হয়েছেন।'
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া