Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০১৯ ১৬:১২

জাবির 'বিতর্কিত' ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাবির 'বিতর্কিত' ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্র শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে সংযুক্ত নতুন দু'টি ধারাকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুন্ন করে দাবি করে তা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্বাবিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে সিন্ডিকেট সভা চলাকালীন সময়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিকের সঞ্চালনায় জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, ‘শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই এবং তাদের মতামতের তোয়াক্কা না করেই প্রশাসন মত প্রকাশ-অবাধ তথ্য প্রকাশের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। তথ্য অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় আইন থাকার পরেও এইরকম আইন প্রণয়ণ অত্যন্ত দুরভিসন্ধিমূলক।’

অবিলম্বে শিক্ষার্থী স্বার্থবিরোধী, নিবর্তনমূলক এই ধারা দু’টি বাতিলসহ শিক্ষার্থী স্বার্থবিরোধী সকল কর্মকাণ্ড থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের কার্যকরী সদস্য রাকিবুল ইসলাম রনি বলেন, রাষ্ট্র কর্তৃক জনগণের টুটি চেপে ধরার যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সারাদেশে বিরাজমান, সেই একই পথে হাঁটছে জাবি প্রশাসন।’

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় ছাত্র শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে নতুন দু’টি ধারা সংযুক্ত করা হয়। যেখানে অসত্য বা তথ্য বিকৃত করে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদন স্থানীয়/জাতীয়/আন্তর্জাতিক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক সংবাদ মাধ্যমে/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ/প্রচার করা বা উক্ত কাজে সহযোগিতা করা এবং কোন ছাত্র-ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর উদ্দেশে টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টানেটের মাধ্যমে কোনো অশ্লীল বার্তা বা অসৌজন্যমূলক বার্তা প্রেরণ অথবা উত্যক্ত করতে পারবে না বলে জানানো হয়।

অধ্যাদেশ মতে, ধারা দুটির ব্যত্যয় ঘটলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চোখে ‘অসদাচরণ’ বলে গণ্য হবে এবং এজন্য লঘু শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, সতর্কীকরণ এবং গুরু শাস্তি হিসেবে আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার, সাময়িক বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে যে কোনো পরিমাণ জরিমানার বিধান রাখা হয়। ধারা দু'টি সংযুক্ত করার পরেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মরত সাংবাদিক ও ছাত্র নেতাদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য