শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:৫৯
প্রিন্ট করুন printer

ফের পেছাল এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

ফের পেছাল এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণ

সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণ ফের পিছিয়েছে। 

বুধবার নির্ধারিত দিনে স্বাক্ষীরা অনুপস্থিত হওয়ায় স্বাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। এর আগে গত ২৪ জানুয়ারিও ধার্য্য তারিখে স্বাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে স্বাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। মামলার ৫১ জন স্বাক্ষীর মধ্যে বুধবার ৫ জনের স্বাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল। 

বুধবার সকাল ১১টায় সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত তারিখে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হকের আদালতে মামলার ৮ আসামিকে কারাগার থেকে এনে হাজির করা হয়। কিন্তু কোন স্বাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় স্বাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের পিপি রাশিদা সাঈদা খানম। তিনি জানান, মামলায় প্রথমে বাদীপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা। তবে নির্ধারিত দুই তারিখেই বাদীপক্ষ সাক্ষীদের হাজির করতে পারেননি।

এদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী শহিদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি আদালতে এ দুটি মামলা একসাথে বিচার কাজ শুরু করার আবেদন করা হয়ছিল। কিন্তু বিচারক এই আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর আমরা এই আবেদন নিয়ে উচ্চ আদালতের শরনাপন্ন হয়েছি। উচ্চ আদালতে বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় সাক্ষীদের হাজির করা হয়নি।’

তিনি জানান, ছাত্রাবাসে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের আগে তার স্বামীকে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনায় ছিনতাই ও চাঁদাদাবির অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়। ধর্ষণ মামলার ৮ আসামিই ওই মামলার আসামি। এতে ধর্ষণ মামলার সাক্ষীদেরও সাক্ষী রাখা হয়েছে। একই ঘটনার পৃথক দুটি মামলা দুটো আদালতে চললে বিচারকার্য বিলম্বিত হতে পারে। এছাড়া সাক্ষীদের দুই জায়গায় সাক্ষ্য দিতে হবে এবং বিচারও প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিবে। তাই আমরা দুই মামলা একই আদালতে একইসাথে চালানোর আবেদন করেছি।

গত ১৭ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। এতে সাইফুর রহমানকে প্রধান করে ছয় জনের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণে জড়িত থাকা এবং অপর দুই জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ও মাহফুজুরকে ধর্ষণে সহায়তা করতে অভিযুক্ত করা হয়। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছেন। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। কলেজের গেট থেকে স্বামীসহ তাকে ধরে ছাত্রাবাসে এনে স্বামীকে বেঁধে নারীকে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:১৪
প্রিন্ট করুন printer

সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে বিশ্বনাথে মানববন্ধন

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি

সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে বিশ্বনাথে মানববন্ধন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে সিলেটের বিশ্বনাথে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কামাল হোসেনকে বর্বর নির্যাতন ও সিলেটে করিম মিয়ার ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদও জানানো হয়।

উপজেলায় কর্মরত গণমধ্যমকর্মীদের উদ্যোগে বৃস্পতিবার দুপুর ১২টায় বাসিয়া সেতুতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় গণমাধ্যমকর্মীরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল আহাদ (ইউরো বাংলা), কাজী মো. জামাল উদ্দিন (দৈনিক জালালাবাদ), জাহাঙ্গীর আলম খায়ের (দৈনিক সমকাল), প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু (দৈনিক উত্তরপূর্ব), আশিক আলী (দৈনিক যুগান্তর), মোহাম্মদ আলী শিপন (দৈনিক কালেরকন্ঠ), সাইফুল ইসলাম বেগ (দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন), রোহেল উদ্দিন (দৈনিক গণমুক্তি)।

আরও উপস্থিত ছিলেন এমদাদুর রহমান মিলাদ (দৈনিক সিলেটের ডাক), অসিত রঞ্জন দেব (দৈনিক সিলেটের বাণী), নুর উদ্দিন (দৈনিক দিনরাত), নবীন সোহেল (দৈনিক শুভ প্রতিদিন), মো. জামাল মিয়া (দৈনিক ভোরের ডাক), আক্তার আহমদ শাহেদ (দৈনিক মানবজমিন), আব্দুস সালাম (দৈনিক ইনকিলাব), মিছবাদ উদ্দিন (দৈনিক আমার সংবাদ), মশাহিদ আলী (শ্যামল সিলেট), ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শফিক ও সংবাদকর্মী আহমদ আলী ইরণ (দৈনিক জনতা) প্রমুখ।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৫২
প্রিন্ট করুন printer

সিলেটে দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেন শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেটে দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেন শিক্ষার্থীরা
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়াসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সিলেটে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর চৌহাট্টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে তারা সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি দাবিগুলো জানান। এসময় তারা দেড় ঘণ্টা চৌহাট্টায় সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে বেলা দেড়টায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

আজ দুপুর ১২টায় নগরীর চৌহাট্টাস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এসময় বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্ট পুরোপুরি বন্ধ করে দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে বেলা ১টায় সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত করেন। পরে বেলা দেড়টার সময় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

কর্মসূচি পালনকালে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী গোল বৃত্তবন্দি হয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে চারদিকের রাস্তায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে স্লোগানে স্লোগানে তাদের দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

মানবব্ন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান মাস্টার্সসহ সকল পরীক্ষার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা মেনে দ্রুত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাস খুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

এদিকে, কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর তাদের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে দেবেন জানান শিক্ষার্থীরা।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৪:৪০
প্রিন্ট করুন printer

মৌলভীবাজার

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কাটা হলো তিন হাজার গাছ

অনলাইন ডেস্ক

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কাটা হলো তিন হাজার গাছ
সংগৃহীত ছবি

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক কিষাণীর প্রায় তিন হাজার সবজি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সবজির ভরা মৌসুমে ফলসহ গাছগুলো কেটে ফেলায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন আশিদ্রোন ইউনিয়নের পাড়ের টং গ্রামের কিষাণী জাহেরা খাতুন। রাতের আঁধারে তার চাষ করা ৩ একর জমির গাছগুলো কেটে এবং উপড়ে ফেলা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়ের টং গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন হাজার করলা, শশা, চালকুমড়া, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি গাছ মাটিতে পড়ে রয়েছে। সব গাছের গোড়া কেটে এবং উপড়ে ফেলে মাটিতে রাখা হয়েছে। গাছগুলোতে ফল ও ফুল দুটোই রয়েছে। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন কৃষানি জাহেরা খাতুন।

সবজি চাষি জাহেরা খাতুন বলেন, ঋণ নিয়ে তিন একর জমিতে সবজি চাষ শুরু করেছিলাম। প্রায় তিন হাজার করলা, শশা, চালকুমড়া, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি গাছ লাগিয়েছিলাম ক্ষেতে। ভরা ফলের সময়ে রাতের আঁধারে আমার ক্ষেতের ফসল কেটে ফেলল। আমি পরিবার নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।

তিনি বলেন, বানিয়াচং উপজেলার গুনই গ্রামের আনোয়ার আলী, পাড়ের টংয়ের ইনচার আলী ও কাদির মিয়া মঙ্গলবার রাতে তার সবজি ক্ষেত নষ্ট করেছে। সবজি গাছগুলো কেটে ফেলায় তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে বুধবার শ্রীমঙ্গল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন ও ৭, ৮, ৯ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য শিল্পী পাল বলেন, আনোয়ার মিয়ার স্ত্রী মারা যাওয়ায় জাহেরা খাতুনকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জাহেরা খাতুন এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আনোয়ার মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে এ কাজ করেছেন।

আনোয়ার মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি পলাতক থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

সূত্র: সমকাল


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৮:৪৯
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১২:০৪
প্রিন্ট করুন printer

শ্রীমঙ্গলে সরকারি গুদামে জমা পড়েনি একমুঠো ধান!

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলে সরকারি  গুদামে জমা
পড়েনি একমুঠো ধান!

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আমন সংগ্রহ অভিযানে একমুঠো ধানও জমা পড়েনি সরকারি গুদামে। এ উপজেলায় আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৪৪২ মেট্রিক টন। আর সরকারি দাম ছিল ১ হাজার ৪০ টাকা মণ। প্রথম তালিকাভুক্ত কৃষকদের নিকট থেকে এই ধান সংগ্রহের সময় শেষ হয় গত ২৫ জানুয়ারি। আর এই সময়ের মধ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে গত ২৬ জানুয়ারি থেকে ২য় তালিকার কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহের নিদের্শনা দেয়া ছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।  কিন্তু এখনো ফাঁকা রয়েছে সরকারি গুদাম।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সরকারি দামের চেয়ে আড়তে ধানের দাম বেশি।  তাছাড়া রয়েছে গোডাউনে ধানের আদ্রতা পরিমাপ, চিটা পরিষ্কার, লোড-আনলোড ও পরিবহন খরচ। এসব ঝামেলার কারণেই কৃষকরা গোডাউনমুখী না হয়ে আডতে ধান বিক্রি করছেন। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি গুদামে ধান জমা না হওয়া মানে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আর বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এর প্রভাব পড়বে দেশের মানুষের উপর। 
  
গত বছরের ৩০ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখা থেকে জারিকৃত এক পরিপত্রে ২০২০ সালের বোরো ধান সংগ্রহের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০২০-২১ আমন মৌসুমের শুরুতে উৎপাদক কৃষকদের মধ্য থেকে লটারি করে দুইটি কৃষক নির্বাচন তালিকা করার জন্য বলা হয়েছিল। স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ হাজার ৯৬১ মেট্রিক টন। আর উৎপাদন হয়েছিল ৭২ হাজার ২৭৬ মেট্রিক টন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, ‘মাঠ পর্যায় থেকে আমাদের কাছে কৃষকের তালিকা এসেছিল। কিন্তু দাম কম থাকায় কৃষকরা গোডাউনে ধান বিক্রিতে সম্মতি দেয়নি, তাই আর লটারি করা হয়নি। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ধানের দাম আরও বৃদ্ধি করা হলে গোডাউনে ধান দিতে কৃষকরা উৎসাহিত হবে।’

দক্ষিণ উত্তরসুর গ্রামের কৃষক কাজী আ. হক জানান, মোটা-চিকন সব ধানেরই  সরকারিভাবে এক মূল্য। আর আড়তে জাত হিসেবে দাম ভালো পাওয়া যায়। 

নওয়াগাঁত্ত গ্রামের কৃষক বকুল মিয়া বলেন, শুধু দাম নয়, ‘সরকারি গোডাউনে ধান নিয়ে গেলে নানান ঝামেলায় পড়তে হয়। তাদের উৎকোচ না দিলে ধানে আদ্রতা কম বা চিটা পরিমাণ বেশি; একটা না একটা অজুহাত তারা বের করবেই। লোড-আনলোডেও শ্রমিকদের টাকা দিতে হয়। এই সব খরচ মিটিয়ে এক মণ ধানের দাম পড়ে ৯০০ টাকা।’

পশ্চিম শ্রীমঙ্গলে কাঞ্চন দাশ বলেন,‘আড়তে ধান বিক্রি করতে কৃষকদের কোন খরচ নেই। তারা কৃষকের বাড়ি থেকেই ধান সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। 

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তকবির হোসেন বলেন, ‘বাইরে দাম বেশি থাকায় কৃষকরা আমাদেরকে ধান দেয় নাই।’

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, কৃষকরা আমন ধান দিতে আসে নাই। কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সরকারের নিয়ম মেনেই আমাদের ধান নিতে হয়।’

আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র হাটহাজারি ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কৃষকদের গোডাউনমুখী করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। সংগ্রহ অভিযানের সময় মাঠপর্যায়ে ব্যাপক হারে ফলাও করে প্রচার প্রচারণা করতে হবে। প্রয়োজনে এই সময়ে দৈনিক ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দিয়ে হলেও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে খাদ্য সংগ্রহ করতে হবে। কারণ সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকলে আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দিতে পারে।’ 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:২৯
প্রিন্ট করুন printer

কানাইঘাট পৌরসভার মেয়র পদের গেজেট স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:

কানাইঘাট পৌরসভার মেয়র পদের গেজেট স্থগিত

সদ্য সমাপ্ত সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদের গেজেট ও শপথ স্থগিত করার আদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। কানাইঘাট পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সোহেল আমিনের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিভাগের ৩ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের এ আদেশের কথা জানিয়েছে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, মেয়র পদের গেজেট ও শপথ স্থগিত করার পাশাপাশি কানাইঘাট উপজেলার ফাটাহিজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবনগর দারুল কোরআন মাদ্রাসা ও দূলর্ভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের ফলাফল পুনঃগণনার আদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
একই সাথে ফাটাহিজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার শাখাওয়াতকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের আদেশ দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কানাইঘাট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লুৎফুর রহমান ১৪৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সোহেল আমিন। 

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর