শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ জুলাই, ২০২১ ২২:১০
আপডেট : ১৩ জুলাই, ২০২১ ২২:১২
প্রিন্ট করুন printer

প্রথম বিয়ে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে আটক বর-ঘটক, অতঃপর...

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রথম বিয়ে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে আটক বর-ঘটক, অতঃপর...
Google News

সিলেটের বিশ্বনাথে প্রতারণা করে বিয়ে করতে এসে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন বর, ঘটক ও এক ভুয়া সাংবাদিক। গতকাল সোমবার রাত ৮টায় উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের পূষণী গুচ্ছগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চন্দ্র দাশের কাছে মুচলেকা ও কনে পক্ষের ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে ছাড়া পান তারা। 

ওই তিন প্রতারক হলেন উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নওধার গ্রামের জুনাব আলীর ছেলে বর ফারুক আলী (৩৯), একই গ্রামের শওকত আলীর ছেলে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সামসুল ইসলাম (৪০) ও খাজাঞ্চী ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে ঘটক কচির আলী (৩৮)।

সূত্র জানায়, ঘটক কচির আলীর মাধ্যমে পূষণী গুচ্ছগ্রামের হানিফ আলীর মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হয় ফারুক আলীর। সময় নির্ধারণ হয় সোমবার রাতে। বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করেন কনে পক্ষ। নির্ধারিত সময়ে ঘটক কচির আলী ও সামসুল ইসলামকে সাথে নিয়ে কনের ঘরে আসেন বর ফারুক আলী। এসময় সামসুল নিজেকে সিলেটের স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। 

কনের পিতা হানিফ আলী জানান, ‘বিয়ের আগ মূহুর্তে আমরা জানতে পারি বর ফারুক আলী বিবাহিত। তার সন্তানও রয়েছে। অথচ, বিয়ের আলাপকালে বিষয়টি বর গোপন রাখেন। তার স্ত্রী-সন্তান আছে জেনে আমরা বুঝতে পারি তিনি প্রতারণায় আশ্রয় নিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে এসেছেন। তাদের সাথে থাকা সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সামসুল ইসলামও সাংবাদিক নন। ভুয়া সাংবাদিক। পরে আমরা তাদেরকে আটকে রেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজ উদ্দিনকে অবহিত করি।

ইউপি সদস্য সিরাজ সিরাজ উদ্দিন বলেন, সোমবার রাতে ওই তিন প্রতারককে আমার জিম্মায় রেখে আজ দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের নির্দেশে তার অফিস কক্ষে নিয়ে যাই।

খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া, উভয়পক্ষের স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সংবাদকর্মীসহ আমার উপস্থিতিতে ওই তিনজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের কাছে মুচলেকা এবং কনেপক্ষের ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে তারা ছাড়া পেয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরপ্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ। তিনি বলেন, তারা ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না মর্মে মুচলেকা দিয়েছেন। সেইসাথে কনেপক্ষের ক্ষতিপূরণের ৬ হাজার টাকাও দিয়েছেন। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল