Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:০৮
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:১২

কুকুরের থাবা থেকে উদ্ধার

পুলিশ যখন নবজাতকের জন্য আশীর্বাদ

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

পুলিশ যখন নবজাতকের জন্য আশীর্বাদ

কাকডাকা ভোর। তখনো সুর্য উদিত হয়নি। চারদিকে নিরব-নিস্তব্ধ। সকালের সতেজ স্নিগ্ধতায় বিভোর সকলে। এমন সময়ে ফুটফুটে এক নবজাতককে নিয়ে টানাটানি করছিল তিনটি কুকুর। পাশেই ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন মা। কিন্তু তিনি ছিলেন নির্বাক। এমন সময়ে কুকুরের মুখ থেকে রক্ষায় আশীর্বাদ হয়ে আসলেন ডবলমুরিং থানার এস আই মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি এই মেয়ে নবজাতককে উদ্ধার করে নিয়ে যান হাসপাতালে। 

মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধারের নবজাতককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে এবং মাকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে বলে জানা যায়। মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর বয়স হবে আনুমানিক ২৫ বছর। তিনি কেবল নিজের নামটাই বলতে পারেন, আয়েশা। তাকে আগেও গর্ভাবস্থায় ফুটপাতে শুয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।   

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) আশিকুর রহমান বলেন, ‘আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংকের সামনে তিনটি কুকুর বাচ্চাটিকে নিয়ে টানাটানি করছিল। সেখানে দায়িত্বরত ডবলমুরিং থানার এসআই মোস্তাফিজ সেটা দেখে বাচ্চাটাকে উদ্ধার করে প্রথমে মা ও শিশু হাসপাতালে পরে সেখান থেকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রাতের দায়িত্ব শেষে সহকর্মীদের সঙ্গে আখতারুজ্জামান সেন্টারের সামনে ছিলাম। এমন সময় রাস্তার অপরদিকে সোনালী ব্যাংকের সামনে তিনটি কুকুর কিছু একটা নিয়ে টানাটানি করতে দেখি। এ দৃশ্য দেখে কৌতুহল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখি- একটা ফুটফুটে বাচ্চা, সদ্যজাত শিশু। কুকুরগুলো শিশুটিকে নিয়ে টানাটানি করছে। এ সময় রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া এক নারীর সাহায্য চাইলে তিনিও এগিয়ে আসেন। রাস্তার পাশে একটি টং দোকান থেকে কাপড় নিয়ে বাচ্চাটাকে মুড়িয়ে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে যাই মা ও শিশু হাসপাতালে। এখানে চিকিৎসকরা শিশুটিকে পরিস্কার করে দিয়ে উন্নত চিকিৎসায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে যাওয়ার পথে আবার বাদামতলী মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় জনতা ব্যাংকের সামনে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে কিছুটা রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় বসে থাকতে দেখি। স্থানীয়রা জানায়, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। শুধু নামটাই বলতে পারছিল। হাত দিয়ে রাস্তার উল্টো দিকে দেখাচ্ছিল। ওই জায়গাতেই বাচ্চাটাকে নিয়ে কুকুরগুলো টানাটানি করছিল তখন।’

এসআই মোস্তাফিজের ধারণা, সোনালী ব্যাংকের সামনে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তিনি রাস্তার অন্যপাড়ে এসে বসে ছিলেন। তখন কুকুরগুলো নবজাতকের গায়ে লেগে থাকা নাড়ি নিয়ে টানাটানি করছিল। পরে নবজাতকের সঙ্গে ওই নারীকে নিয়ে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান এ পুলিশ সদস্য। চিকিৎসক বলেছেন, কুকুরের কামড় শিশুর গায়ে লাগেনি। বর্তমানে মা ও শিশু দুইজনই সুস্থ আছে বলে জানা যায়।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য