শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৯ ২২:০৩

তৃতীয় শ্রেণির সেই অন্তঃস্বত্বা ছাত্রীর জবানবন্দি গ্রহণ

রেজাউল করিম মানিক, রংপুর

তৃতীয় শ্রেণির সেই অন্তঃস্বত্বা ছাত্রীর জবানবন্দি গ্রহণ

২৫ সপ্তাহের অন্তঃস্বত্তা হওয়া রংপুর মহানগরীর নজিরের হাটের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী (১২) আদালতের বিচারকের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে রংপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এর বিচারক স্নিগ্ধা রাণী চক্রবর্তি তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। 

 
রংপুর কোর্টের জিআরও আবুল কালাম জানান, চাঞ্ছল্যকর এ ঘটনার মামলার বাদি হাজিরহাট থানার এসআই ফেরদৌস আলম বিকেলে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ শিশুটিকে আনেন। আদালতের বিচারক স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তি নারী শিশু ১১ ধারায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। 
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-আরপিএমপির হাজিরহাট থানার এসআই ফেরদৌস আলম জানান, ওই শিশুর মা পাশ্ববর্তি জুয়েলের মালিকানাধীন সোনার বাংলা নার্সারি ও এগ্রোবাংলা লিমিটেডের কেয়ারটেকার তোফাজ্জল হোসেনের রান্নাবাড়ার কাজ করতো। মায়ের কাজ করার সুবাধে ওই শিশু সেখানে যাতায়াত করতো এবং মায়ের সাথে কাজ করতো। এরই মধ্যে ওই শিশু কন্যা অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়ে। 

সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর দেখা যায় তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া ওই শিশু ২৫ সপ্তাহের অন্তঃস্বত্তা। এরপর মেয়েটিকে নজিরেরহাটে ল্যাপরোসি মিশনে ভর্তি করা হয়। এরপর মেয়ের মা ১৮ আগস্ট হাজিরহাট থানায় অজ্ঞাতনামাদের অভিযুক্ত করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে কঠোর নিরাপত্ত্বায় আদালতে নেয়া হয়। পরে আদালতে শিশুটি জবানবন্দি দিয়েছেন।

শিগগিরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মিডিয়াকে অবহিত করা হবে বলেও জানান তিনি। 
  
এসআই ফেরদৌস আলম আরও বলেন, যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রাথমিক অভিযোগ তিনি মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার কারণে তার মৃত্যুর বিষয়টি বলা হচ্ছে। তবে তার মৃত্যুটা স্বাভাবিক নাকি বিষক্রিয়ায় হয়েছে সে বিষয়টি আমরা তদন্ত শুরু করেছি। হাসপাতালের কাগজপত্র নেয়ার চেষ্টা করছি। 

তিনি জানান, মেয়েটি ছোট ও অন্তঃস্বত্বা হওয়ায় এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্থ অবস্থায় আছে। তাকে আমরা রিকভারি করার চেষ্টা করছি। তবে শিগগিরই ধর্ষণ ও অভিযুক্ত ধর্ষকের মৃত্যুর বিষয়টির ক্লু উদঘাটন করা হবে। 

সোনারবাংলা নার্সাসি অ্যান্ড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক জুয়েল জানান, তিন বছর থেকে তোফাজ্জল আমার নার্সারির সব বিষয় দেখাশুনা করে আসছে। আমি কখনও ব্যাংকে কখনও হাতে হাতে তাকে প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সা দিতাম। ঈদের ছুটিতে আমি গ্রামের বাড়িতে যাই। ১৬ জুলাই শুক্রবার খবর পাই তোফাজ্জল বিষ খেয়েছে। সাথে সাথে আমি লোক পাঠিয়ে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করি। সেখানে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। এরপর তাকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। আমার সাধ্য অনুযায়ী তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ব্যাবস্থাও করেছি। 

তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে একজন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ব্যপারে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। পোস্টমোর্টেম ছাড়াই দাফনের ব্যাপারে তিনি বলেন, পরিবার চায়নি তাই, পোস্ট মোর্টেম হয়নি। 
 
বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর