Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ১৫:১০
আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:২৫

ওয়ার্কার্স পার্টি ছাড়লেন বিমল বিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

ওয়ার্কার্স পার্টি ছাড়লেন বিমল বিশ্বাস
বিমল বিশ্বাস

আর্দশ বিরুদ্ধ কর্মকাণ্ড, কৌশলের নামে নীতিকে জলাঞ্জলি, গণতন্ত্রের চর্চার নামে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দল চালানোর অভিযোগ এনে প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিটব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য বিমল বিশ্বাস। 

একই সঙ্গে তিনি নতুন করে ডাক দিয়েছেন কমিউনিস্ট ও বাম ঐক্য গড়ে তোলার। তিনি জানান, পার্টির মূল নেতৃত্বের বিচ্যুতির কারণে প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যদিয়ে আরেক দফা ভাঙনের পথে হাঁটলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী ওয়ার্কার্স পার্টি।

মঙ্গলবার ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার কাছে চিঠি দিয়ে সদস্যপদ প্রত্যাহার করেন বিমল বিশ্বাস। 

তিনি গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মূল নেতৃত্বের বিচ্যুতির বিরুদ্ধে পার্টির অভ্যন্তরে কথা বলেছেন। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল এবং ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল পলিটব্যুরোর সভায় তিনি অব্যাহতি চেয়েছিলেন। আসন্ন পার্টি কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত ‘ফোরাম’-এ নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে তিনি তার বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।

বিমল বিশ্বাস তার সদস্যপদ প্রত্যাহার-পত্রে উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে ওয়ার্কার্স পার্টির মূল নেতৃত্ব মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের কথা বলেন, কিন্তু কাজ করেন আদর্শের বিরুদ্ধে। কৌশলের নামে নীতিকে জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাথে কৌশলগত যে ঐক্য তাকে কাজে লাগানো হয়েছে এমপি ও মন্ত্রী হবার জন্য। লুটেরা ধনিক শ্রেণির যে কোনো দলই হোক না কেন, সমাজ বিপ্লবকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শোষক শ্রেণি ও তাদের রাষ্ট্রযন্ত্রকে রক্ষার ক্ষেত্রে মূলগতভাবেই শত্রু। শোষক শ্রেণি ও তার রাষ্ট্র ব্যবস্থা শক্তিশালী হয় এমন যে কোনো কৌশল বুর্জোয়া লেজুড়বৃত্তি কৌশল এবং লুটেরা ধনিক শ্রেণিকে শক্তিশালী করার কৌশল!

পত্রে বিমল বিশ্বাস আরও বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টির গঠনতন্ত্রে বর্ণিত সদস্যপদের ধারাগুলিকে পদদলিত করে এবার ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী জেলাসহ বিভিন্ন জায়গায় সদস্য বৃদ্ধির নামে যাকে তাকে সদস্যপদ দিয়ে পার্টির শক্তি বৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে। পার্টি ও শ্রেণি গণসংগঠনের আন্তঃসম্পর্ক, ফান্ড পলিসি, ক্যাডার পলিসিসহ অনেক ব্যাপারেই মতপার্থক্য রয়েছে। অগণতান্ত্রিক পথেই পার্টি পরিচালিত হচ্ছে। তার সাথে যে আদর্শিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পার্থক্য তা দূরিভূত হবার নয়। তাই তিনি পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। ওই পত্রে বিমল বিশ্বাস শ্রমজীবী মানুষের শ্রেণি সংগ্রামের ভিত্তিতে কমিউনিস্ট ঐক্য  ও বাম ঐক্য গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য