শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ২২:৪৭
আপডেট : ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ২২:৫১
প্রিন্ট করুন printer

নারায়ণগঞ্জে সেই সমিতির রমজান গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে সেই সমিতির রমজান গ্রেফতার
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকায় ‘সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল সমিতি’ এ যারা টাকা জমা রেখেছিলেন তাদের মধ্যে নতুন করে আশা সঞ্চয় হতে চলেছে। এ সমিতির তত্ত্বাবধায়ক রমজান ও তার স্ত্রী আটকের পরে দেখা দিয়েছে ওই আশার আলো। গত কয়েক মাস ধরেই এ সমিতির শত শত গ্রাহক চরম হতাশায় ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে কেউ কোন সুরহা করতে পারেনি। 

জানা গেছে, গত ২৬ নভেম্বর রমজান ও তার স্ত্রীকে আটক করে র‌্যাব। টাকা কার কাছে কোথায় রেখেছে, কিংবা বিনিয়োগ করা হয়েছে তার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করছে র‌্যাব। দুই লিটার বিদেশী মদসহ আটক দেখিয়ে গ্রেফতারকৃত স্বামী-স্ত্রীকে মাদক মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে প্রতারক রমজানকে গ্রেফতারের খবরে শনিবারও বাবুরাইল এলাকায় জড়ো হয় গ্রাহকরা। 

এলাকাবাসী জানান, আর্থিক মুনাফা লাভের আশায় জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নগদ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন এই সমিতিতে। মাসিক ভিত্তির সঞ্চয়, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় (ডিপিএস) ও দুই থেকে দশ বছর মেয়াদে (এফডিআর) মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ তারা। তবে কোন ধরনের লাইসেন্স বা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ আঠারো বছর যাবত এভাবেই অবৈধভাবে সমিতি পরিচালনা করে আসছিলেন মালিক রমজান আলী। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়ি, জমি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হওয়াসহ অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার কথা স্থানীয়রা বলেছেন। 

ভুক্তভোগীরা জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে লকডাউনের সময় থেকেই সমিতির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। খুলে ফেলা হয় সাইনবোর্ডটিও। করোনা পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে তাদের বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কর্মচারীর উপর দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন পরিচালক রমজান আলী। এ নিয়ে কয়েক দফা বিক্ষোভও করে প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘২৬ নভেম্বর রাত ২ টা ৩০ মিনিটে নগরীর ডনচেম্বার এলাকার নিজ বাসা থেকে এ দম্পত্তিকে গ্রেফতার করা হয়ে ছিল। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ লিটার বিদেশী মদ ও নগদ ৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর গ্রেফতারকৃতদের ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হয়। গ্রেপ্তারের পরে আসামি রমজান আলী সমিতির নামে প্রতারণা করে টাকা আত্মস্বাতের বিষয়টি স্বীকার করেছে। পাশাপাশি বলেছে, টাকা-পয়সা ব্যবসায় বিনিয়োগ করে ফেলেছে। এখন ক্যাশ টাকা নেই, পরে দিয়ে দিবে।  

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, র‌্যাব-১১ থেকে মাদকসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আসামী রমজান ও তার স্ত্রী তানিয়া বেগমকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরদিন শুক্রবার আদালতে উঠানো হয়। এরপর আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। 
 
বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর