বিশ্ব বন্ধ্যাত্ব সচেতনতা মাস ২০২৬ উপলক্ষে এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি (আরইআই) ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধন উপলক্ষে বুধবার কলেজ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি (আরইআই) ইউনিট। অনুষ্ঠানের সায়েন্টিফিক পার্টনার ছিল রেনাটা পিএলসি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম, পরিচালক (মেডিকেল এডুকেশন), স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর (DGME)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ, বিভাগীয় প্রধান, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. আইনুল ইসলাম খান, অধ্যক্ষ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ; অধ্যাপক ডা. মো. রেহান উদ্দিন খান, বিভাগীয় প্রধান, অ্যানেস্থেসিয়া, আইসিইউ ও পেইন মেডিসিন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল; ডা. নন্দা দুলাল সাহা, পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মেডিকেল এডুকেশন) অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম বলেন, বন্ধ্যাত্ব একটি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যগত অবস্থা। কিন্তু আমাদের সমাজে এটি এখনও নানা ভুল ধারণা ও সামাজিক সংকোচের সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ মানুষকে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এবং বিশেষায়িত সেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে। চিকিৎসা শিক্ষা ও বিশেষজ্ঞ সেবার সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রজননস্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
বিশেষ অতিথি ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আইনুল ইসলাম খান বলেন, একটি মেডিকেল কলেজের দায়িত্ব শুধু চিকিৎসক তৈরি করা নয়, বরং মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নতুন বিশেষায়িত সেবা গড়ে তোলা। রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ইউনিটের যাত্রা শিক্ষা, গবেষণা ও রোগীসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ফার্টিলিটি অ্যান্ড স্টেরিলিটি সোসাইটি অব বাংলাদেশের (FSSB) সভাপতি অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম বলেন, বাংলাদেশে বন্ধ্যাত্ব নিয়ে সচেতনতা আগের তুলনায় বাড়লেও এখনও অনেক দম্পতি লজ্জা, ভয় কিংবা ভুল তথ্যের কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা এবং সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।
সভাপতির বক্তব্যে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ বলেন, বন্ধ্যাত্ব কেবল একটি চিকিৎসাগত বিষয় নয়, এটি একটি পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতাও। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয়, আধুনিক চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে অনেক দম্পতির সন্তান ধারণের স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। আমাদের নতুন REI ইউনিট সেই লক্ষ্যেই বিশেষায়িত ও সমন্বিত সেবা প্রদান করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক ডা. নিলুফার ইয়াসমিন, ইউনিট প্রধান (ইয়েলো)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. নাফিসা জেসমিন এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. নিঘাত সুলতানা।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল