Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মে, ২০১৯ ২৩:১৯

রাস্তায় ইফতার কয়েক হাজার পুলিশের

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

রাস্তায় ইফতার কয়েক হাজার পুলিশের

ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্ত। সব মানুষের মধ্যে নীড়ে ফিরে প্রিয়জনের সঙ্গে ইফতার করার তাড়া। তাই কারোর সময়ক্ষেপণ করার অবস্থা নেই। এদের মধ্যে রাস্তায় কিছু মানুষ ব্যতিক্রম। ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাস্তায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) হাজারও পুলিশ সদস্য। আজান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই যখন ইফতারি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তখনো তারা বিরামহীনভাবে চালিয়ে যান কর্মযজ্ঞ। অন্যজন যখন প্রিয়জনের সঙ্গে ইফতার শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন, অপরদিকে তা চিন্তা করেই নিজের কষ্ট ভুলেন পুলিশের এসব সদস্য।

সিএমপি কমিশনার মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘যখন মানুষ ঘরমুখো হয় প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার করার জন্যে, তখন পুলিশ সদস্যরা ব্যস্ত থাকেন জনগণের নিরাপত্তা ও চলাচল নির্বিঘœ করার কাজে। এ ধরনের বিসর্জন পুলিশ ছাড়া আর অন্য পেশার লোকজন খুব একটা দিতে পারেন না। এ ধরনের বিসর্জন দিয়ে পুলিশ সদস্যরা আনন্দ পায়।’ চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েকটি পয়েন্ট ঘুরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইফতারের আগে চলাচল নির্বিঘ্ন এবং মার্কেটগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকেন পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের হাজারও সদস্য। দায়িত্ব পালনকালে সারা দিন রোজা রাখার পর রাস্তায় সারতে হয় ইফতার। দায়িত্বরত পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যদের জন্য এবার প্রথম বারের মতো আলাদা বরাদ্দ করেছে সিএমপি। এ বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে ছোলা, মুড়ি, খেজুর, জিলাপি, পেঁয়াজু, বেগুনি, পানিসহ কয়েকটি ইফতারি আইটেম। তবে পুলিশ সদস্যরা বরাদ্দের সঙ্গে নিজেদের টাকা নিয়ে আরও কিছু খাবার যুক্ত করেন।

নগরীর জিইসি’র মোড়ে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক সদস্য বলেন, ‘আজান দেওয়ার পর চাইলেও সবাই এক সঙ্গে ইফতার করতে পারি না। আজান দেওয়ার আগেই নিজেদের মধ্যে বোঝা পড়া করে ক্ষণিকের জন্য দায়িত্ব ভাগ করে নেই। একজন ইফতার করলে অন্য জন দায়িত্ব পালন করি। অন্যজন ইফতার শেষ করে এলে তখন নিজে ইফতার করতে যাই। এভাবে কাটে ট্রাফিক পুলিশের ইফতার।’

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘সবাই চায় পরিবার পরিজনের সঙ্গে ইফতার করতে। কিন্তু আমরা চাইলেও সেটি পারি না। পরিবারের সঙ্গে ইফতারের চেয়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বেশি আনন্দময় আমাদের কাছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর