শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:২৪

বগুড়ায় ৭২ কেজির বাঘাইড় মাছ

আব্দুর রহমান টুলু, বগুড়া

বগুড়ায় ৭২ কেজির বাঘাইড় মাছ

মাছ না তিমি মাছ তা নিয়ে একটা শোরগোল ছিল। মাছটির বিশাল মাথা, হা করা মুখের চারপাশ দিয়ে বের হয়েছে সুচালো দাঁতগুলো। মাথাটা বেশ কালো। বগুড়ার পোড়াদহ মেলায় গতকাল এ মাছটি দেখতে ভিড় করেছিল সব বয়সীর  মানুষ। ৭২ কেজির বাঘাইড় মাছটি দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে। ৭২ এর পর ছিল ৫২ কেজির বাঘাইড় মাছ। ১০ কেজির কাতল, ব্লাডকার্প ১৯ কেজি, ৬ কেজির রুই, ১৮ কেজির সিলভারকাপ, ২২ কেজির বোয়ালও। মেলায় এবার স্থান পেয়েছে তিন কেজির মিষ্টি মাছ। এ মাছ খেতে সুস্বাদু এবং খুবই মিষ্টি। বগুড়ার পোড়াদহ মেলা কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪০০ বছর পূর্ব থেকে স্থানীয় সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ী বন্দরের ঐতিহ্যবাহী এ পোড়াদহ মেলা বসে। দুই বছর আগে থেকে মেলাটির স্থান পরিবর্তন হয়েছে।

মেলা বসার পূর্বের স্থান থেকে আরেকটু পূর্বধারে মেলা বসছে। প্রতি বছর বাংলা সনের মাঘ মাসের শেষ বুধবার মেলাটি হয়। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার পূর্বে ইছামতি নদীর তীরে পোড়াদহ এলাকায় এ মেলা বসে। ফলে মেলাটি সবার কাছে পোড়াদহ মেলা নামেই পরিচিত। কথিত আছে মেলাস্থলে ইছামতি নদীর তীরে একটি বিশাল বটবৃক্ষ ছিল। সেখানে হঠাৎ এক সন্ন্যাসীর আবির্ভাব ঘটে। পরে সেখানে আশ্রম তৈরি করে সন্ন্যাসীরা। এক পর্যায়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে স্থানটি পুণ্যস্থানে পরিণত হয়। প্রতি বছর মাঘের শেষ বুধবার সন্ন্যাসী পূজার আয়োজন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। কালের আবর্তে লোকজনের উপস্থিতি বাড়তেই থাকে। এভাবে গোড়াপত্তন ঘটে পোড়াদহ মেলার।

 বর্তমানে সবধর্মের মানুষের মেলবন্ধনে পরিণত হয় এ মেলা। এ মেলাকে ঘিরে উৎসবের আমেজে মেতে উঠে মেলার আশপাশ গ্রামের সব বর্ণের মানুষ। তবে মেলাটি এক দিনের হলেও চলে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত। পোড়াদহ মেলায় সবাইকে দাওয়াত দিয়ে ধুমধাম করে খাওয়াতে হয়Ñযা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। মেলা উপলক্ষে এলাকার গৃহবধূরা আগেই ঘর-দুয়ার পরিষ্কার করা, মুড়ি-খৈ ভাজা, নারিকেলের নাড়– তৈরি শুরু করে। মেয়েজামাই থেকে শুরু করে সবাই স্বজনদের দাওয়াত করে খাওয়ান। বগুড়া সদর, গাবতলী, ধুনট, সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলাসহ চার উপজেলার মানুষ এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে। মাছ ব্যবসায়ী বিপ্লব জানান, তিনি যমুনা নদী থেকে ৭২ কেজি এবং ৫২ কেজি ওজনের দুটি মাছ নিয়ে এসেছেন। মাছটি কয়েকদিন আগে ধরেছেন। ৭২ কেজির মাছ তিনি ১৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবেন। আর ৫২ কেজির মাছ ৮৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকানো হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন আকারের মাছ উঠেছে মেলায়। মিষ্টি বিক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, তিনি মাছ আকৃতির ৩ কেজি মিষ্টি তৈরি করেছেন। এ ছাড়া তিনি আধা কেজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন আকারের মাছ আকৃতির মিষ্টি বিক্রি করছেন। মেলায় প্রচার পেয়েছে যে মিষ্টি মাছ হিসেবে। মিষ্টি তিনি বিক্রি করছেন ৩০০ টাকা কেজি। মেলার স্থান পোড়াদহ এলাকায় হলেও মেলা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্নস্থানে। পোড়াদহ মেলাকে ঘিড়ে মেলা বসে সুবোধ বাজার, দুর্গাহাটা, বাইগুনী, দাঁড়াইল, তরণীহাট, পেরীহাটসহ আশপাশের বিভিন্নস্থানে। এবারের মেলার মূল আকর্ষণ হলো দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ, মিষ্টি আর কাঠের তৈরি ফার্নিচার। এ ছাড়াও বিভিন্ন আসবাবপত্র, বড়ই, কৃষি সামগ্রী ও খাদ্য দ্রব্য হাট-বাজারের মতোই ক্রয়বিক্রয় হয়। বগুড়ার গাবতলী থানার ওসি সাবের রেজা আহমেদ বলেন, মেলা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর