শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:১১

মোংলায় কনটেইনারের মালামাল চুরি, জড়িত তিন সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাটের মোংলায় কনটেইনার ভেঙে কাপড় চুরির ঘটনায় বন্দরের তিনটি সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় বন্দরের অন্তত ১৫ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতাও পেয়েছেন তারা। একই সঙ্গে পুরান ঢাকার ইসলামপুর থেকে চোরাই কাপড়ের একাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল ডিবি পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রাজীব আল মাসুদ সাংবাদিকদের এসব জানান। তিনি জানান, ওই ঘটনায় শামসুল আরেফিন, মনির হোসেন, আবুল কাশেম, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অরুণ ও লেবার সরদার সাগরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অরুণ ও সাগরকে গত ২২ নভেম্বর মোংলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। কাশেমকে গত ১৮ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছে চট্টগ্রামের টেরী বাজার থেকে। বাকি দুজনকে গ্রেফতার করা হয় গত ৯ সেপ্টেম্বর।  রাজীব আল মাসুদ বলেন, এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায়- তিনি চায়না থেকে কিছু কাপড় আমদানি করেছেন। সেই মালামাল (কাপড়) পোর্ট থেকে বের হওয়ার আগেই বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তিনি নিজেও তার মালামালের স্যাম্পলের সঙ্গে মিলিয়ে বাজার থেকে কিছু মাল কেনেন। মোংলা বন্দরের মাধ্যমে তিনি তিন লাখ ৩০ হাজার গজ কাপড় আমদানি করেছিলেন। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামপুরের একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯৫ হাজার গজ চোরাই থানকাপড় উদ্ধার করা হয়। এরপর গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পুরো সিন্ডিকেট শনাক্ত করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তে এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত মোংলা বন্দরের কিছু অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তা, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, অসাধু কাপড় ব্যবসায়ী এবং খুচরা বিক্রেতাদের নাম পাওয়া যায়। আমদানি করা কনটেইনারের ভিতরে কী কী মাল থাকে সেটা জানে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। তারা তাদের সিন্ডিকেটের অন্য সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে মাল খালাসের জন্য দুটি পরিবহনের পরিবর্তে চারটি পরিবহন বন্দরের ভিতরে প্রবেশ করায়। যে মালামাল কাস্টমস থেকে ক্লিয়ারেন্স পেয়েছে সেগুলো দুটি গাড়িতে উঠায়। একই মালের অন্য কনটেইনার যেগুলো কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পায় না এমন কনটেইনারের ভিতর থেকে তালা খুলে মাল চুরি করে বাকি দুই গাড়িতে করে সরিয়ে নেয়। এরপর এই চোরাই মালামাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলে যেত বিভিন্ন জেলার চোরাই বাজারে। এর মধ্যে আছে চট্টগ্রামের টেরী বাজার, পুরান ঢাকার ইসলামপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী। ডিবি সূত্র জানায়, চীনের ওয়াইফ্যাং জিনশেং ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে কাপড় আনার চুক্তি করেছিল আজিজ অ্যান্ড সন্স। পণ্য কনটেইনারে তুলে বারকোড দেওয়া তালা ঝুলিয়ে ছবিও পাঠিয়েছিল ওয়াইফ্যাং। কিন্তু মোংলা বন্দরে পণ্য খালাসের প্রস্তুতির সময় দেখা গেল তালা বদলে গেছে, খোয়া গেছে আমদানি করা পণ্যের বড় অংশ। প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের পণ্য উধাও। আমদানিকারক রাসেল রহমান তদন্ত সংশ্লিষ্টদের জানান- ইসলামপুরে তার প্রতিষ্ঠান আজিজ অ্যান্ড সন্স থেকে ১৫০ মিটার দূরের একটি কাপড়ের গুদামে তার খোয়া যাওয়া পণ্য ছিল। সেখান থেকে বিক্রিও হচ্ছিল। রাসেলের কাছে গত ডিসেম্বরে চীনা প্রতিষ্ঠান ৩১ হাজার ৯১৩ কেজি ফেব্রিকস পাঠায়। জাহাজে কনটেইনারে ওঠানোর পর বারকোড দেওয়া যে তালা লাগানো হয়েছিল, সেই বারকোডও নিয়ম অনুযায়ী মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পণ্য ছাড় করা হয়নি। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে ওখানেই রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গত ৬ সেপ্টেম্বর পণ্য খালাসের সময় কাস্টমস ও বন্দরের নিয়ম অনুযায়ী কনটেইনার ওজন করা হলে ৩১ হাজার ৯১৩ কেজির বদলে পাওয়া যায় ৬ হাজার ১৪০ কেজি পণ্য।

পরে পুরান ঢাকার ইসলামপুরে লালবাগ গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) সাইফুর রহমান আজাদ অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া বাকি কাপড়গুলো উদ্ধার করেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর