শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৪৮

এক যুগের প্রতারণায় তিনি এখন কোটিপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতিক, উপদেষ্টা ও আমলাদের নাম ব্যবহার করে এক যুগ ধরে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মাগুরার শাওন আহমেদ প্রিন্স। নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি কিংবা বদলি সবই সম্ভব বলে আশ্বাস দিতেন তিনি। বিনা সুদে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ, বিবদমান জায়গা-জমির জটিলতা নিষ্পত্তি, পাওনা টাকা আদায় এমনকি আসামি ছাড়ানো- কী সম্ভব নয়? শুধু গুনতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা। এভাবে দিনের পর দিন প্রতারণা করে আসছিলেন প্রিন্স। তাকে গ্রেফতারের পর পুলিশ বলছে, এমন কোনো প্রতারণা নেই যা তিনি করেননি। ব্ল্যাকমেইল করে কাউকে নাস্তানাবুদ করতেও ছাড়েননি। বছর দশেক আগে দুজনকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে প্রতারণায় প্রথম হাতেখড়ি তার। জেলও খাটেন কয়েকদিন। জেল থেকে বের হয়ে ফের শুরু হয় তার নিত্যনতুন প্রতারণার ফাঁদ। এমনকি তিনি দ্বিতীয় বিয়েটিও করেন প্রতারণার ফাঁদ পেতে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করাই হয়ে ওঠে তার একমাত্র পেশা। সরকারি বিভিন্ন তহবিল থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন কয়েক কোটি টাকা। শুরু করেন জমির বিরোধ-নিষ্পত্তি, পাওনা টাকা আদায়ের নামে নতুন প্রতারণা। কখনো নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পরিচয় দিয়ে প্রিন্স প্রতারণা শুরু করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই অনুসন্ধানে  নামে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান গতকাল জানান, প্রতারণার কাজে তিনি কয়েকজন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তার নাম-পরিচয় ব্যবহার করতেন এবং বলতেন তাদের সঙ্গে তার সুসস্পর্ক। কাদের ব্যবহার করে তিনি প্রতারণা করতেন তারও তদন্ত করা হবে। প্রিন্সের তিনটা বিয়ে। এর মধ্যে দ্বিতীয় বিয়েটিও করেছেন প্রতারণা করে। নেত্রকোনার এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের জন্য বালুমহাল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে করেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিযোগ করেন, তাদের একজনের শ্যালক ও ছোট ভাইকে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। আবার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে একটা ঋণ ছাড়া হয়েছে, সেটি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে একজনের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর