শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০২১ ২৩:২৮

দেশে শতভাগ ডিজিটাল ব্যাংকিং চালুর স্বপ্ন দেখেন কাজী আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে শতভাগ ডিজিটাল ব্যাংকিং চালুর স্বপ্ন দেখেন কাজী আলমগীর
Google News

দেশে শতভাগ ডিজিটাল ব্যাংকিং চালুর স্বপ্ন দেখেন এ দেশের ব্যাংকিং অটোমেশন ইতিহাসে ডিজিটালাইজেশন ও অনলাইন বেজড আধুনিক ব্যাংকিং সেবা চালুকরণের অন্যতম স্থপতি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড-বিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা- সিইও কাজী আলমগীর। তিনি বলেছেন, পেপারলেস ব্যাংকিং ছিল আধুনিক ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয় ধারণা, যার ফলে আজ বিশ্বব্যাপী ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড চালু ও জনপ্রিয় হয়েছে। এখন সময় এসেছে ভার্চুয়াল বা স্মার্ট ব্যাংকিংয়ের। এখন আর ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে, ঋণ পেতে, টাকা উত্তোলনে, রেমিট্যান্স পেতে মানুষকে ব্যাংকে আসতে হয় না।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আলমগীর। তিনি বিডিবিএলে যোগদানের পরই কন্ট্রাক্টলেস ব্যাংকিং তথা ভার্চুয়াল ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ নেন। বিডিবিএলকে একটি আদর্শ ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি ইতিমধ্যে অনলাইন ব্যাংকিং সফটওয়্যারটি যুগোপযোগীকরণ, ই-জিপি, অটোমেটেড চালান সিস্টেম, ই-নথি, ডিজিটাল হাজিরা ও ই-মামলা পরিচালন সফটওয়্যার চালু করেছেন। এ ছাড়া বিডিবিএলের দেশব্যাপী উপশাখা চালু, ডেবিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর  আগে ৯০ দশকের শেষের দিকে ডাটা এন্ট্রির জন্য যখন সরকারি ব্যাংকে কম্পিউটার চালুর উদ্যোগ নেয় তখন অনেকেই চাকরি হারানোর ভয়ে এর বিরোধিতা করেন। সে সময় অগ্রণী ব্যাংকে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করে সরকারি ব্যাংকে ডিজিটালাইজেশনের ফুটপ্রিন্ট স্থাপন করেন কাজী আলমগীর। তার মতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে কন্ট্রাক্টলেস ব্যাংকিং তথা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ধারণা সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বাংলাদেশও এতে পিছিয়ে নেই।

কাজী আলমগীর বলেন, সাবেক বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক (বিএসবি) ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা (বিএসআরএস) বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দুটি প্রতিষ্ঠান যা তিনি নিজে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সে দুটি প্রতিষ্ঠানকে রুগ্ন অবস্থা থেকে রক্ষা করতে ২০১০ সালে গড়ে তোলেন বিডিবিএল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যার স্বপ্নের দুটি প্রতিষ্ঠান অবশ্যই বিশ্বমানের সেবা প্রদানে ব্রত থাকবে এবং বাংলাদেশকে একটি আদর্শ ডিজিটাল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ সফল করতে সচেষ্ট থাকব ইনশা আল্লাহ। মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও কেবল দূরদৃষ্টি আর ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সম্ভাবনা অনুধাবন করে কাজী আলমগীর সফটওয়্যার প্রোগ্রামিংয়ে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। অগ্রণী ব্যাংকের সব শাখায় যখন ব্যাংকের লেনদেনসহ সব কাজ ম্যানুয়ালি করা হতো তখনই তিনি প্রথম অনুধাবন করেন যে ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে হলে, শাখাগুলোকে বড় বড় ম্যানুয়াল লেজার বইয়ের পরিবর্তে ব্যাংকিং সফটওয়্যার প্রচলন করে ব্যাংকিং লেনদেন সহজ ও স্বচ্ছতা আনতে হবে। সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম অগ্রণী ব্যাংকের নয়টি করপোরেট শাখায় লেনদেন ও আনুঙ্গিক হিসাব ব্যাংকিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার লক্ষ্যে আইবিএম মিনি কম্পিউটারের মাধ্যমে ‘অগ্রণী স্যলুশন’ নামে অনলাইন কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ডেভেলপ ও চালু করেন। এ ছাড়া হেড অফিসের পেরোল, রিকনসিলিয়েশন, আইন বিভাগের মামলাসংক্রান্ত কাজ, স্টেশনারি, ফার্নিচারসহ অন্যান্য সেবা দ্রুত প্রদানের জন্য ইনহাউস সফটওয়্যার ডেভেলপ ও বাস্তবায়ন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি অগ্রণী ব্যাংকে বিভিন্ন সফটওয়্যার ডেভেলপের জন্য প্রোগ্রাম লেখা, সিস্টেম অ্যানালিস্ট হিসেবে সিস্টেম অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ডিজাইনকরণ, অগ্রণী ব্যাংকের সার্বিক অটোমেশন তথা ব্যাংকের সব (৯৩৫) শাখায় অনলাইন ব্যাংকিং সফটওয়্যার চালুকরণ, সুইফট, এটিএম, এজেন্ট ব্যাংকিং, আরটিজিএস, ব্যাচ, বিএফটিএন বাস্তবায়নের নেতৃত্ব প্রদান করেন। কেবল অগ্রণী ব্যাংকেই নয়, কর্মসংস্থান ব্যাংকের ডিএমডি হিসেবে ব্যাংকটিকে অটোমেটেড ব্যাংকে উন্নীত করেন। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)-এর এমডি হিসেবে ব্যাংকটিতে ডাটা সেন্টার স্থাপন এবং অনলাইন সিবিএস বাস্তবায়ন করে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকে রূপান্তর করেন। তার এ অকৃত্রিম ডিজিটালবান্ধব পদক্ষেপের জন্য তিনি রাকাব বোর্ড কর্তৃক ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স’ পুরস্কার লাভ করেন এবং অগ্রণী ব্যাংক পর্ষদ কর্তৃকও প্রশংসিত হন। এ ছাড়া তিনি ২০২০ সালে ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রচার ও বাস্তবায়নের একজন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউএসএ কর্তৃক ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর সুদীর্ঘ ৩৩ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে তিনি অগ্রণী ব্যাংক, রাকাব এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকগুলোকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকে রূপান্তরে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করে এখন বিডিবিএলকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।