সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালে বাড়ছে চিকিৎসার পরিধি

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে প্রতিদিনই নতুন করে শনাক্ত হচ্ছে করোনা। সরকারি হাসপাতালগুলো এখন করোনা রোগীতে টইটম্বুর। আইসিইউ তো নয়ই, আইসোলেশনেও মিলছে না শয্যা। এমন পরিস্থিতিতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোকেও করোনা মোকাবিলায় শয্যা প্রস্তুত করতে বলেছে সরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের ছয়টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশন ও আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত করছে। করোনা মোকাবিলায় গঠিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় সার্ভিল্যান্স টিম প্রস্তুতির বিষয়টি তদারক করছে। জানা যায়, চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে বৃহত্তম আকারে সেবা দিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে আইসোলেশন শয্যা ১৮০টি এবং আইসিইউ আছে ২১টি। তাছাড়া মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন শয্যা ৪১টি ও আইসিইউ ১০টি। চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিআইএমসিএইচ) আইসোলেশন শয্যা ছিল ৬০টি, এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা উন্নীত করা হয় ১২০ শয্যায়, আছে ছয়টি করোনা স্পেশালাইজড এইচডিইউ ও আইসিইউ শয্যা। সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন শয্যা ২০টি ও প্রস্তুত করা হচ্ছে পঁাঁচটি আইসিইউ। ইউএসটিসিতে আইসোলেশন শয্যা আছে ৩০টি ও আইসিইউ আছে পাঁচটি। বিজিসি ট্রাস্ট কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন শয্যা আছে ২০টি। সিআইএমসিএইচের ব্যবস্থাপনা কমিটির সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘করোনার বর্তমান ভ্যারিয়েন্টটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে আক্রান্ত-মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দ্রুত শয্যা ৬০ থেকে ১২০-এ উন্নীত করা হয়। প্রতিদিনই গড়ে ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী ভর্তি থাকছে। করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন, বায়প্যাপ মেশিন, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সমন্বয়ে ডেডিকেটেড টিমের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’ সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইটি অফিসার প্রসেনজিৎ বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে ২০টি শয্যায় চিকিৎসা চলছে এবং পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে করোনা মোকাবিলায় গঠিত বিভাগীয় সার্ভিল্যান্স টিমের প্রধান ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মিজানুর রহমান বলেন, আমরা মেডিকেল কলেজগুলোর হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শন করে সেখানে করোনা রোগী ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ করেছি। ইতিমধ্যেই তারা নিজেদের উদ্যোগে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করেছে। প্রয়োজনে তাদের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকেও সহায়তা দেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো কোনো রোগী যাতে চিকিৎসার বাইরে না থাকে।  জানা যায়, বর্তমানে সরকারি তিনটি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা আছে ৪৩টি, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে ৪৭টি, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আছে ৬৯টি এবং ভেন্টিলেটর আছে ৩৮টি। পক্ষান্তরে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা আছে ১১৯টি, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে ১২৪টি, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আছে ২৪টি এবং ভেন্টিলেটর আছে চারটি। এরপরও চলছে চরম সংকট। শয্যার জন্য চলছে হাহাকার।