শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:১০

ধুঁকছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল

জামান আখতার, চুয়াডাঙ্গা

ধুঁকছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল
Google News

জনবল সংকটে ১৭ বছর ধরে ধুকছে ১০০ শয্যার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। বর্তমানে এ হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও নেই চিকিৎসার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। আগের ৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে বর্তমান কার্যক্রম। ১০০ শয্যা অনুযায়ী ৪২ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে ডেপুটেশনে আছেন চার চিকিৎসকসহ ২২ জন। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। আগত রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ চিকিৎসক সংকট না কাটলে দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা দিন দিন বাড়বে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম কবির জানান, বর্তমানে ৫০ শয্যার বিপরীতেই মেডিসিন, ইএনটি, চর্ম ও যৌন, অ্যানেসথেসিয়া ও চক্ষুসহ পাঁচজন কনসালটেন্টের পদ খালি আছে। এসব পদের মধ্যে চারজন ডেপুটেশনে এসে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা স্বপদে ফিরে গেলে চিকিৎসক সংকট আরও বাড়তে পারে। সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যার হাসপাতালটি ২০০৩ সালে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। এ হিসেবে হাসপাতালে ৪২ জন চিকিৎসক ও ১০৮ জন নার্স-কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা।

এর মধ্যে একজন তত্ত্বাবধায়ক, ১০ জন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ১১ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), ছয়জন মেডিকেল অফিসার, ১১ জন সহকারী সার্জন, একজন ডেন্টাল সার্জন ও একজন মেডিকেল অফিসার (হোমিও) পদ থাকার কথা। কিন্তু হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার সতেরো বছরেও এর প্রয়োজনীয় জনবলের অনুমোদন পাইনি। ১০০ শয্যার অনুকূলে চিকিৎসকসহ জনবল অনুমোদনপ্রাপ্তির জন্য সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় পত্র দেওয়া হলেও কার্যত কোনো লাভ হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আবুল হোসেন বলেন, অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ৫০ শয্যার নতুন একটি বিভাগ খোলা হয়েছে। সেখানে নতুন করে ১০ জন চিকিৎসক যোগদান করেছেন। অতিরিক্ত কোনো নার্স পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, সিভিল সার্জন, আরএমও এবং মেডিসিন কনসালটেন্ট পদে দায়িত্বরতরা হাসপাতালের পাশাপাশি করোনা বিভাগে বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন। চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বারবার যোগাযোগ করেছি। তারাও একাধিকবার প্রয়োজনীয় জনবলের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

এই বিভাগের আরও খবর