শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩২

অবৈধ করাতকলে বন উজাড়

শেরপুর প্রতিনিধি

অবৈধ করাতকলে বন উজাড়

শেরপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শ্রীবর্দী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী। এ উপজেলা তিনটি ঘিরে রয়েছে সরকারের সংরক্ষিত, রক্ষিত, অর্পিত বিশাল বনাঞ্চল। সরকারের আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত, রক্ষিত, অর্পিত বা অন্য যে কোনো ধরনের সরকারি বনভূমির সীমানা থেকে ন্যূনতম ১০ কিমির মধ্যে করাতকল (স-মিল) স্থাপন করা যাবে না। করাতকল স্থাপনের আগেই সরকারি অনুমোদন নিতে হবে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার আগে বা পরে কোনো করাতকল পরিচালনা করা যাবে না। ওই বিধান লঙ্ঘন করলে যথাযথ কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। এ বিধি লঙ্ঘন করে ওই তিন উপজেলায় বনাঞ্চলের ১ থেকে ৫ কিমির মধ্যে অন্তত ৩০টি, ১০ কিমির মধ্যে ৫৫টি অবৈধ স-মিল চলছে। এতে উজাড় হচ্ছে বনের গাছ। জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স-মিল স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি, সর্বশেষ বন বিভাগ থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও কেউ মানছেন না আইন। আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ইচ্ছা হলেই বসানো যাচ্ছে স-মিল। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে কাটা হচ্ছে গাছ। রাতের অন্ধকারে চোরাই পথে আসা গাছ দিয়ে চলছে অধিকাংশ স-মিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নেতার লেনদেন, আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গড়ে উঠছে এসব স-মিলি। অবৈধ স-মিল থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন বিভাগের তথ্যমতে ওই তিন উপজেলায় অন্তত ১৭৫টি স-মিল আছে। যার মধ্যে লাইসেন্স আছে মাত্র ২৮টির।। তিন উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা শ্রীবর্দীর। এ উপজেলায় স-মিল আছে ৭৫টি। লাইসেন্স আছে নয়টির, লাইসেন্সের জন্য আবেদন আছে নয়টি। শ্রীবর্দীর বনসংলগ্ন রানীশিমুল ইউনিয়নের আনাচে কানাছে গড়ে উঠেছে স-মিল। সরকারি হিসাবেই বনাঞ্চলের মধ্যে ১৭টি স-মিল চলছে। এখানে বন বিভাগের লোকেরাও অসহায়। নালিতাবাড়ী উপজেলায় স-মিলের সংখ্যা ৭০। এর মধ্যে নিবন্ধন আছে ১৫টির। নিবন্ধনের আবেদন আছে আরও ১০টির মতো। ২০টির মতো স-মিল আছে বনাঞ্চলের মধ্যে। ঝিনাইগাতী উপজেলায় স-মিলের সংখ্যা ৩০। নিবন্ধন আছে মাত্র চারটির।

উপজেলার বনাঞ্চল ধানশাইলে বনের ভিতর আছে চারটি করাতকল। স-মিল মালিকদের অনেকের অভিযোগ, আবেদন করেও বছরের পর বছর ধরে লাইসেন্স পাচ্ছেন না। সহকারী বন সংরক্ষক ড. প্রাণতোষ চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘লোকবল সংকট, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যবস্থা নিলেও আবার আগের অবস্থায় চলে আসে। মোবাইল কোর্টের জন্য বারবার আবেদন করলেও প্রশাসনের ব্যস্ততার কারণে তারা সময় দিতে পারছেন না। বনাঞ্চল থেকে স-মিল সরাতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শ্রীবর্দী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা জানিয়েছেন, সত্বর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। তবে শুধু মোবাইল কোর্ট দিয়ে সমাধান হবে না, বন বিভাগকে আরও সক্রিয় হতে হবে।