শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মার্চ, ২০২১ ২৩:০৫

বিয়ে করলেন জুয়েল, যৌতুকের মামলায় জেল খাটলেন জুবায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিয়ে না করেও ‘স্ত্রী’র করা যৌতুক মামলায় ফেঁসেছেন এক নামি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা টি এম আল জুবায়ের (৪৩)। তিনি উপজেলার নছরতপুর গ্রামের মৃত হাবিবর রহমানের ছেলে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী জুবায়ের ও প্রতারক জুয়েল ঘনিষ্ঠ বন্ধু। জুবায়ের গাজীপুর জেলা শহরে শরীফ মেলামাইন কোম্পানির জোনাল ম্যানেজার পদে চাকরি করেন। তার শিক্ষাসনদের ফটোকপি কৌশলে হাতিয়ে নেন নছরতপুর গ্রামের মৃত তাহের মন্ডলের ছেলে জুয়েল মাহমুদ (৩৫)। দুজনই ধুনট উপজেলার বাসিন্দা। জুবায়েরের শিক্ষাসনদের ফটোকপি দিয়ে জুয়েল গাজীপুর এলাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। একই কারখানায় চাকরির সুবাদে আলমিনা খাতুন নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে জুয়েলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আলমিনা কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের মেয়ে।

২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর জুয়েল মাহমুদ নিজের নাম গোপন রেখে শিক্ষাসনদ অনুযায়ী টি এম আল জুবায়েরের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ২ লাখ টাকা রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে আলমিনাকে বিয়ে করেন। বিয়ের প্রায় তিন বছর পর জুয়েল স্ত্রীকে ছেড়ে নিরুদ্দেশ হন। ফলে আলমিনা বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ আদালতে বিয়ের কাবিননামায় লিখিত নাম অনুসারে টি এম আল জুবায়েরের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে টি এম আল জুবায়েরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে যুবায়ের জেলও খাটেন। যুবায়ের বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার। পরে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে জুবায়ের জানতে পারেন, জুয়েল মাহমুদ তার নাম ব্যবহার করে আলমিনাকে বিয়ে করেছেন। বর্তমানে জুবায়ের জামিনে আছেন। কিন্তু প্রতারক জুয়েল আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুয়েলের মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ছেলে (জুয়েল) আমার খোঁজখবর রাখে না। তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। কোথায় আছে তাও জানি না। জুবায়ের ও জুয়েল ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে জুবায়েরের নাম ব্যবহার করে জুয়েলের প্রতারণা করা ঠিক হয়নি। এ ধরনের অপকর্মের জন্য আমি আমার ছেলের শাস্তি চাই।’

টি এম আল জুবায়ের বলেন, ‘জুয়েলের প্রতারণার শিকার হয়ে আমার মানসম্মান ক্ষুণ হয়েছে। আমি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তার প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেতে ধুনট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। এ ঘটনায় জুয়েল মাহমুদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি।’

ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার বর্মণ বলেন, জুবায়েরের জিডির আরজি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে। জিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী জুয়েল মাহমুদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর