শতকোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত গোপালগঞ্জ সম্প্রসারিত বিসিক শিল্পনগরী কোনো কাজে আসছে না। এখানে নেই কোনো উদ্যোক্তা। ফাঁকা পড়ে আছে অধিকাংশ প্লট। একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয়রা বঞ্চিত কর্মসংস্থান থেকে। শিল্পনগরী চালু হলে প্রায় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হতো। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত সম্প্রসারিত বিসিক শিল্পনগরী চালু করা হোক। গোপালগঞ্জ বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘সম্প্রসারিত বিসিক প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালে শেষ হয়েছে। এর পর থেকে উদ্যোক্তা আকৃষ্ট করতে আমরা পত্রিকায় একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। তবু এসেছে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠান। উদ্যোক্তারা এলেও আবার ফিরে যান। আমরাও চাই এখানে কলকারখানা গড়ে উঠুক। মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হোক।’
বিসিক সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১ জুলাই গোপালগঞ্জ শহরসংলগ্ন হরিদাসপুরে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে শুরু হয় গোপালগঞ্জ বিসিক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ। ১০২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষ হয় ২০২১ সালের জুনে। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৪৪ ও বিশেষ ক্যাটাগরিতে ৯৪টি প্লট রয়েছে। প্লটের প্রতি বর্গফুটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২০ টাকা ৬২ পয়সা। ২৩ আগস্ট পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ছয়টি প্লট। বাকি ১৩২টি ফাঁকা পড়ে আছে।
২৫ আগস্ট সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিসিক এলাকার মাঝখান দিয়ে গোপালগঞ্জ-রাজশাহী রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে। সড়ক থেকে শিল্পনগরীর কোনো অবস্থান বোঝা যায় না। ওই স্থানে রেলগেট না থাকায় যান চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। এ ছাড়া রেললাইন বিসিকের প্রধান ফটকের সামনে দিয়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনে ১ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। সম্প্রসারিত বিসিকের ভিতরে পশ্চিম-পূর্বমুখী সাতটি ও উত্তর-দক্ষিণমুখী চারটি পাকা সড়ক থাকলেও দুই পাশে কাশবন ও ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে এলাকা। অব্যবহৃত পড়ে থাকায় শিল্পনগরীর বেশির ভাগ জায়গা পরিণত হয়েছে জঙ্গল আর পশুচারণ ভূমিতে। বনফুল কারখানার কর্মচারী দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘এ কারখানায় প্রায় ১০০ শ্রমিক কাজ করি। অন্য কোনো কারখানা এখানে চালু নেই। চারপাশে জঙ্গল হয়ে গেছে। রাতে বের হতে ভয় লাগে। মাঝে মাঝে কিছু যুবক মোটরসাইকেলে এসে আড্ডা দেয়। সম্ভবত তারা মাদক সেবন করতে আসে। প্লটগুলো বরাদ্দ হয়ে কলকারখানা পুরোদমে চালু হলে এলাকা কর্মমুখর হয়ে উঠবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মেহেদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে বিশাল জায়গায় বিসিক গড়ে তোলা হলেও তা ফাঁকা পড়ে আছে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এবং উদ্যোক্তা আকৃষ্ট করলে এলাকার মানুষের কাজের সুযোগ হবে। না হয় প্রকল্পের বিপুল অঙ্কের টাকা জলে যাবে।’