Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০১৯ ১৯:৪৮

বিপদসীমার ৯৮ সে.মি. উপরে সুরমা নদীর পানি, সুনামগঞ্জে প্লাবিত বহু এলাকা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বিপদসীমার ৯৮ সে.মি. উপরে সুরমা নদীর পানি, সুনামগঞ্জে প্লাবিত বহু এলাকা

গত চার দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও ধর্মপাশা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুরমা নদীর পানি উপচে শহরের অনেক এলাকা পানি ঢুতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দী হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। 

বন্যার পানিতে ওইসব এলাকার অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। পানি উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে। ভেসে গেছে অনেক পুকুরের মাছ। রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে কোন কোন এলাকা।

বৃহস্পতিবার টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তাহিরপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। উপজেলার বাদাঘাট, বালিজুরি, সদর, উত্তর বড়দল ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। অনেকের ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় পাঠদান ব্যাহত রয়েছে। 

এদিকে, বৃহস্পতিবার প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর, কাজিরপয়েন্ট, উকিলপাড়া ও তেঘরিয়াঘাট এলাকা। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠার আশঙ্কা করছেন নাগরিকরা। এদিকে, বিকাল থেকে পানি উঠতে শুরু করেছে শহরের প্রধান বিপণিকেন্দ্র মধ্যবাজারেও। বিকালের দিকে বাজারের গলিতে এক ফুট পরিমাণ পানি দেখা যায়। পানি বাড়তে থাকলে আগামীকাল শুক্রবার সকালের মধ্যে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।   

এদিকে, সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা ও আনোয়ারপুর এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চতুর্থ দিনের দিনের মতো জেলা সদরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে তাহিরপুর উপজেলার। বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমা, কুশিয়ারাসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবাবার সন্ধ্যা ৬টার সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে হাওর ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এদিকে, দুর্যোগ মোকাবেলার প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জনপ্রতিনিধিরা। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, দুর্যোগ মোবাকালায় কবলিত এলাকায় উদ্ধার টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিন হাজার ৭৩৫ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে জরুরি প্রয়োজনের জন্য। 

দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান ডিসি। 

বিডি-প্রতিদিন/১১ জুলাই, ২০১৯/মাহবুব


আপনার মন্তব্য