শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৯:৩০
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৯:৩২

যৌতুক না দেয়ায় গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন, গ্রেফতার ১

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

যৌতুক না দেয়ায় গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন, গ্রেফতার ১

দুই লাখ টাকা যৌতুন না দেয়ায় স্বামী, শাশুড়ি ও দুই মামা শ্বশুরের বিরুদ্ধে গৃহবধূ মুন্নি আক্তারের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। 

শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের গুহবধূর স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গৃহবধূ বাদী হয়ে স্বামীসহ তার তিন সহযোগীকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। 

আসামিরা হলো, স্বামী সাঈম আহমেদ (২৬), শাশুড়ি জাহানারা বেগম (৪৫), মামা শ্বশুর আতাবুর রহমান (৪২) ও হাবিবুর রহমান (৩৮)। পুলিশ আতাবুর রহমানকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে সোমবার জেল হাজতে পাঠিয়েছে।     
 
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এখলাছ উদ্দিন গৃহবধূ মুন্নির বরাত দিয়ে জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের সালেহ আহমেদের ছেলে সাঈম আহমেদের সাথে একই উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের মজিবর রহমানের মেয়ের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে মোয়াজ্জেম নামে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে গৃহবধূ নয়নপুর এলাকার অটো স্পিনিং মিলে শ্রমিকের চাকরি নেয়। তার বেতনের সম্পূর্ণ টাকা স্বামীর হাতে তুলে দেয়। ছেলে মোয়াজ্জেম জন্ম হওয়ার মাসখানেক পর থেকে স্বামী সাঈম পরিবারের লোকজনের কু-পরামর্শে ও প্ররোচনায় স্ত্রীর কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। গৃহবধূ বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দিতে অপারগতা জানালে স্বামী, শাশুড়ি ও দুই মামা শ্বশুর প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। রবিবার সকাল আনুমানিক ১০ টায় স্বামী আবারো বাবার বাড়ি থেকে সেই দুই লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য তাকে চাপ দেয়। গৃহবধূ বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে পারবেনা বলে স্বামীকে জানায়। পরে স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন তাকে মারধোর করে ব্লেড দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে ঘরে আটকে রাখে। পরে স্বামী বাড়িতে না থাকায় কৌশলে ছেলে মোয়াজ্জেমকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। 
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এখলাছ উদ্দিন আরো বলেন, মামলা হওয়ার পর ওইদিন রাতেই একজন আসামিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য