শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ মার্চ, ২০২০ ১৭:১৭

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বগুড়া শহরে ভিড় বাড়ছে মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বগুড়া শহরে ভিড় বাড়ছে মানুষের

করোনাভাইরাসে সংক্রমনের হুমকির মুখে পড়ে যেতে পারে বগুড়া শহর। সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কিছু সংখ্যাক মানুষ বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছেন। অপ্রয়োজনে বাহিরে এসে পাড়া মহল্লায় আড্ডায় দিচ্ছেন। অনেকেই আবার শহর ঘুরতে বের হচ্ছেন। 

পুলিশসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর অনুরোধ মানছে না অনেকেই। মঙ্গলবার বগুড়া শহরে অনেক লোকের সমাগম দেখা যায়। নিত্যা প্রয়োজনীয় কাঁচা বাজার খোলা থাকছে সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। কাঁচা বাজারে দুই একটি পণ্যের দাম কমলেও মূলত তেমন কোন হের-ফের হয়নি।

জানা যায়, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ বগুড়া জেলা শহরের বাসিন্দারা বেশ নিয়ম পালন করলেও ২৯ মার্চ সেটি কঠোর ছিল না। এরপর ৩০ মার্চ সোমবারও ছিল একই অবস্থা। ৩১ মার্চ এসে শহরে লোকজন আরো বেড়েছে। সামাজিক দূরত্ব না মেনে অনেকেই গা ঘেঁষে চলাচল করছে। দিনে লোকজন দেখা গেলেও অবশ্য সন্ধ্যার পর তেমন মানুষের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ মানুষ যখন ঘরবন্দি হয়ে আছে। খাবার ক্রয়, বাজার করা, ওষুধ ক্রয় করার বিষয়টি ঠিক থাকলেও অনেক তরুণকে রবিবার শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দেখা গেছে। যাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে মাস্ক দেখা গেলেও ঘর থেকে বাহিরে চলে এসে অসচেতনতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। 

বগুড়া শহরের তিনমাথা, সাতমাথা, বড়গোলা, কালিতলা, ফুলবাড়ি, মাটিডালি, নবাববাড়ি সড়ক, চেলোপাড়া, কলোনী এলাকায় বেশ কিছু মানুষ দেখা গেছে যারা অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়েছে। জেলা শহরের রাস্তায় রাস্তায় বগুড়া সদর থানা পুলিশ, র‌্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা, সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাইকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পৌরসভা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, এমনকি জেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্নভাবে প্রচার প্রচারণা করা হলেও কিছু সংখ্যাক যুবক এই নিয়ম মানছেন না। এদিকে বগুড়ার কাঁচা বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম তেমন কোন হের ফের হয়নি। প্রায় আগের দামেই সব বিক্রি হলেও কমেছে দুই একটি পণ্যের দাম। 

বগুড়া শহরের ফতেহ আলী কাঁচা বাজারের ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ঢেড়স, করলা, বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা কেজি। টমেটো, শশা, ক্ষিরা ৩০ টাকা থেকে নেমে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি। আর হাটে টমেটো বিক্রি হয়েছে পাইকারি ৭টাকা কেজি। সাধারণ ছুটির আগে লাল শাক, ডাটা শাক, পুঁই শাকসহ সব ধরনের শাক বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা কেজি এখন সেই শাকগুলো বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা আর কোথাও বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজি। আর সকল চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা করে। আলুর দাম ২৫টাকা কেজিই আছে। তবে বাজারে পাকিস্তানী মুরগীর দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৯০ টাকা আর সাদা ব্রয়লার মুরগী বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। ডিমের দাম কমেছে হালিতে ৬ থেকে ৮টাকা করে। 

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামান বলেন, কেউ যদি সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলে, আর করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষায় সচেতন না হয় তাহলে কঠোর হতে হবে। আমরা সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করছি, ঘরে থাকতে। তারপরও তারা ঘরে থাকছে না। অনুরোধ কত সময় করা যাবে?

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য