শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:৪৯
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:৫৬

রংপুরে তিস্তার পানি আবারও বিপৎসীমার উপরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুরে তিস্তার পানি আবারও বিপৎসীমার উপরে

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের সবকয়টি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

গঙ্গাচড়া কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলায় চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আবারও শতশত পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। 

তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের নোহালী, চর নোহালী, বাগডোহরা, মিনার বাজার, চর বাগডোহরা ও নোহালী সাপমারী, আলমবিদিতর ইউনিয়নের হাজীপাড়া ও ব্যাংকপাড়া, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, উত্তর চিলাখাল, মটুকপুর, বিনবিনা মাঝের চর, সাউদপাড়া ও বাবুরটারী বাঁধেরপাড়, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের ধামুর ও গান্নারপাড়, লক্ষিটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, পূর্ব ইচলী, জয়রামওঝা, পশ্চিম ইচলী, মহিপুর ও কলাগাছি, গজঘণ্টা ইউনিয়নের ছালাপাক, গাউছিয়া, জয়দেব, রমাকান্ত, একনাথ ও কালির চর এবং মর্নেয়া ইউনিয়নের আলাল চর, তালপট্টি চর, হাজির পাড়া, নরসিং ও মর্নেয়া চর তলিয়ে গেছে। 

এসব এলাকায় মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর, কাউনিয়া সদরসহ ৮টি চরগ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

চরের বাড়িগুলোর চারপাশে শুধু পানি আর পানি। হঠাৎ করে আসা পানিতে বাঁধ ছুঁইছুঁই করছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরে হাঁটু কিংবা কোমর পানি ওঠায় চুলা জ্বালাতে পারেনি চরের পরিবারগুলো। 

কোলকোন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু জানান, তিনি ভোরে পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ সহায়তার জন্য তালিকা তৈরি করছেন। 

লক্ষিটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, তিনি রাত থেকে শংকরদহ ও বাগেরহাট এলাকার লোকজনকে নিয়ে ভাঙনরোধে কাজ করছেন। পানির স্রোতে তার এলাকায় ৯০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমা ধরা হয়। বৃষ্টিপাত ও উজানের পানি আসা অব্যাহত থাকলে পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর