শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৩২
প্রিন্ট করুন printer

কাউন্সিলর তরিকুল হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের দাবি স্ত্রী-সন্তানের

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

কাউন্সিলর তরিকুল হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের দাবি স্ত্রী-সন্তানের

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ফলাফলে বিজয়ী হবার দশ মিনিটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী শাহাদত হোসেন বুদ্দিনসহ তার সমর্থকদের ছুরিকাঘাতে নিহত তরিকুল ইসলাম খানের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নিহত কাউন্সিলর তরিকুল ইসলামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে কাউন্সিলের স্ত্রী হাসিনা খানম হাসিনা বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে পূর্ব থেকেই শাহাদত হোসেন বুদ্দিন এবং তার সমর্থকরা অস্ত্রসস্ত্র নিয়েই কেন্দ্রে এসেছিল। এ কারণে ফলাফল ঘোষণার পরপরই কেন্দ্রের মধ্যেই হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করে তরিকুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার ঘটনার পর প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যার প্রধান আসামি শাহাদত হোসেন বুদ্দিনসহ সকল আসামিকে গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মাত্র একজন আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, প্রকাশ্যে হত্যাকান্ডটি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য একটি মহল নানা চক্রান্ত শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের মা, আমি আমার মায়ের কাছে আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আপনি দুঃখী সন্তানকে কখনোই খালি হাতে ফেরত দিবেন না। 

প্রসঙ্গত, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে (নতুন ভাঙ্গাবাড়ী, বেপারীপাড়া ও শহিদগঞ্জ) কাউন্সির পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নতুন ভাঙ্গাবাড়ী ও বেপারীপাড়া কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষনা হলেও শহিদগঞ্জ কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা করতে দেরি হয়। এ কারণে কাউন্সিলর প্রার্থী তরিকুল ইসলাম খান তার কয়েকজন সমর্থক নিয়ে শহিদগঞ্জ কেন্দ্রে যান। তিনি যাবার কিছুক্ষণ পর কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফলে তরিকুল ইসলাম খান ৮৫ ভোটে বিজয়ী হওয়ায় কেন্দ্রের মধ্যেই তার সমর্থকরা উল্লাস ধ্বনি দেয়।

এ সময় আগ থেকেই কেন্দ্রে ফলাফল নিতে আসা প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী শাহাদত হোসেন বুদ্দিন ও তার সমর্থকরা হামলা চালিয়ে তরিকুলকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন নিহতের ছেলে হৃদয় খান বাদী হয়ে শাহাদত হোসেন বুদ্দিনসহ ৩২ জন নামীয় ও ৩০/৪০জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্বপন বেপারী নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।  

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর