শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ মে, ২০২১ ১৩:৩৪
আপডেট : ৮ মে, ২০২১ ১৩:৪১
প্রিন্ট করুন printer

পারিবারিক ক্ষোভ থেকেই মাদ্রাসা ছাত্রীকে হত্যা, চাচাত ভাইয়ের দায় স্বীকার

ফেনী প্রতিনিধি

পারিবারিক ক্ষোভ থেকেই মাদ্রাসা ছাত্রীকে হত্যা, চাচাত ভাইয়ের দায় স্বীকার
Google News

ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের মাইজবাড়িয়ায় তানিশা ইসলাম তিশা (১১)-কে গলা কেটে হত্যার দায় স্বীকার করেছে তার চাচাতো ভাই। ফেনীর জ্যুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন নিশান। গতকাল শুক্রবার (৭ মে) রাতে সে আদালতকে জানান, তিশার পরিবারের উপর ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সে তাকে হত্যা করেছে। 

ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী শনিবার (৮ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, নিশান হত্যার দায় পুলিশের কাছে স্বীকার করলে পুলিশ তাকে আদালতে নিয়ে যান। পরে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। নিশানের দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দড়ি, কসটেপ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ছুরিতে রক্তের স্যাম্পল রয়েছে। স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। 

পুলিশ সুপার আরও বলেন, নিশান তার মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় তার বাবার মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পর তাকে ও তার মাকে তার ফুপুরা দেখাশোনা করতেন বলে সে জানিয়েছেন। তারা চাচা তানিশার বাবা তাদের অনেক অত্যাচার করেছেন, বাড়ি থেকে বেরও করে দিয়েছিলেন, জমিজামা দখল করে রেখেছেও বলে নিশান জানিয়েছেন। তাই তার ছোট বেলা থেকে তার চাচার পরিবারের প্রতি প্রতিশোধের নেশা কাজ করছিল। ঘটনার দিন তানিশার ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে সে তানিশার ঘরে ঢুকে তার মুখে কসটেপ লাগিয়ে দেয়। পরে তাকে কিল-ঘুষি মেরে, টেনে হিঁচড়ে ছাদে নিয়ে যায়। দঁড়ি দিয়ে বাঁধার চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারেনি। পরে আগে থেকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ছুরি দিয়ে সে তাকে গলা কেটে হত্যা করে।  

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জানান, তানিশার শ্লীলতাহানী করা হয়েছিল কি না বা চেষ্টা করা হয়েছিল কি না ময়নাতদনন্ত রিপোর্টের পর তা জানা যাবে। ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা তা তদন্তে জানাযাবে। তদন্ত চলবে। 
 
এর আগে, তানিশাকে হত্যার দায়ে তানিশার ভাই আশরাফুল ইসলাম হাসনাত ফেনী মডেল থানায় তার চাচাতো ভাই নিশানকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তানিশা ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের মাইজবাড়িয়া গ্রামের প্রবাসী শহিদুল ইসলামে ছোট মেয়ে। 

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে তানিশাকে তার ঘরে ঢুকে তার চাচাত ভাই হত্যা করে। তানিশাা ফেনী শহরের ডাক্তার পাড়ার মহিছুন্নাহ মাদ্রাসার ষষ্ট শ্রেণির ছাত্রী। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ রাতেই তানিশার চাচাত ভাই নিশান (১৬)-কে আটক করে। সেও একটি মাদ্রাসার ছাত্র। ঘটনার সময় তানিশা মা ও বড় বোন পাশের বাড়িতে ছিল। ঘরে তানিশার বৃদ্ধ দাদী ও সে ছিল। মৃত্যুর আগের দিন তিশার জন্মদিন ছিল। জন্মদিনে তার একমাত্র বোন আসতে না পারায় সে রাগ করে। এই কারণে তার বড় বোন তার জন্য একটা লেহেঙ্গা কিনে বোনকে দিতে এসেছিল। 

 

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর

এই বিভাগের আরও খবর