শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ আগস্ট, ২০২১ ১৬:১৩
প্রিন্ট করুন printer

খরার কবলে পড়েছে উত্তরের কৃষিনির্ভর জেলা নীলফামারী

নীলফামারী প্রতিনিধি

খরার কবলে পড়েছে উত্তরের কৃষিনির্ভর জেলা নীলফামারী
Google News

খরার কবলে পড়েছে উত্তরের কৃষিনির্ভর জেলা নীলফামারী। সূর্যের খরতাপ আর আকাশে সাদা মেঘের ভেলার লুকোচুরি খেলা। ভরা বর্ষায় নেই বৃষ্টির দেখা। পানি অভাবে ক্ষেতের জমি ফেটে চৌচির। ফসলের ক্ষেত আগাছায় পরিপূর্ণ। চলছে নিড়ানির কাজ। দেয়া হচ্ছে সেচ। বিস্তীর্ন এলাকার আবাদি জমি পানির অভাবে পতিত হয়ে পড়ে আছে। অনেকেই সেচ দিয়ে আমন চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বৃষ্টির পানি না হওয়ায় আমন চাষে চরম সমস্যায় পড়েছেন কৃষকেরা। একই অবস্থা পাট চাষেও। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে বৃষ্টির পানিকে কাজে লাগিয়ে ডোবায় পাট কেটে জাগ দিয়ে থাকে কৃষকেরা। এবার বৃষ্টির পানির অভাবে পাট জাগ দিতেও পারছে না তারা।

টুপামারী ইউনিয়নের আরাজি ইটাখোলা গ্রামের কৃষক শ্রী প্রমোদ চন্দ্র রায় বলেন, এবার বৃষ্টির পরিমাণ অনেক কম। পাট চাষ করে জমির পাট কেটে ফেলে রাখতে হচ্ছে। পাট জাগ দেয়ার মতো খাল, বিল ও ডোবায় পানি নেই। অনেকে পুকুর ও জমি ভাড়া নিয়ে পাটজাগ দিতে বাধ্য হচ্ছে।

চওড়া বড়গাছা এলাকার কৃষক ইব্রাহিম সুজন বলেন, বাধ্য হয়ে শ্যালো ও মোটর চালিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছি এবং আমনের চারা রোপণ করছি। বৃষ্টির পানিতে লাগানো আগাম আমন ক্ষেত পানির অভাবে চুপসে যাচ্ছে। 

বর্ষার পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে যারা আমনের জমি আবাদ করেছেন তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। তারা কোথাও পানি পাচ্ছেন না। এতে আগাম লাগানো ধানের ক্ষেতগুলো পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে কৃষি বিভাগের পক্ষে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষকরা জানায়, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদরা আমাদের সেচযন্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে পাট জাগ দেয়ার পরামর্শ প্রদান করছে।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এবারে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৭০৯ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে মাত্র ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর। গত বছর আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত হয়েছিল ৫৫৩ দশমিক ৮৭ মিলিমিটার। এ মৌসুমে একই সময়ে বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ২২৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার।


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা