৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:৪৭

স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ; স্বামী সন্তানসহ নারী নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

বাগেরহাট প্রতিনিধি

স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ; স্বামী
সন্তানসহ নারী নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

পারভীন আহমেদ

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, মারধর করে জোরপূর্বক গর্ভের সন্তান নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগে স্বামী-সন্তানসহ বাগেরহাট মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এক স্কুল শিক্ষিকা। ৩০ আগস্ট সকালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষিকা বাগেরহাট সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। গোপন রাখা হলেও বিষয়টি নিয়ে শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ অবশেষে শুক্রবার মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 
 
মামলার আসামিরা হলেন বাগেরহাট শহরের রেলরোডস্থ রেদওয়ান আহমেদ রাতুল (২৯), রাতুলের বাবা ফারুক আহমেদ (৫৮) এবং রাতুলের মা বাগেরহাট মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকা ও বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট পারভীন আহমেদ (৫০)। 
 
মামলার বরাত দিয়ে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রেদওয়ান আহমেদ রাতুলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই স্কুল শিক্ষিকার। প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে ১৪ জুলাই স্কুল শিক্ষিকার ভাড়া বাসায় শারীরিক সম্পর্ক করেন রাতুল। পরবর্তীতে ২৩ জুলাই রাতুলের রেল রোডস্ত বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ওই শিক্ষিকার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন রাতুল।
 
সর্বশেষ ২৯ আগস্ট নিজেকে দুই মাসের অন্তস্বত্তা দাবি করে রাতুলের বাড়িতে যায় ওই শিক্ষিকা। সেখানে জোরপূর্বক আবারও ওই শিক্ষিকাকে ধর্ষণ ও মারধর করেন রাতুল। বিষয়টি রাতুলের মা বাগেরহাট মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকা পারভীন আহমেদ দেখে ফেলেন। তখন ওই শিক্ষিকা অন্তসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি পারভীন আহমেদকে জানান। পরে ওই স্কুল শিক্ষিকার গর্ভের সন্তান অপসারণ করতে জোরপূর্বক বাগেরহাট শহরের দাসপাড়া মোড়স্থ একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান পারভীন আহমেদ। একপর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে রাস্তার পাশের দোকানে আশ্রয় নিয়ে অসহায় ওই শিক্ষিকা চিৎকার করতে থাকেন। স্থানীয়রা জড়ো হলে সে সময় ওই নারীনেত্রী সরে পড়েন। পরে ৩০ আগস্ট বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ওই স্কুল শিক্ষিকা।
 
এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে পারভীন আহমেদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগ এনে ওই স্কুল শিক্ষিকা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর থেকে রেদওয়ান আহমেদ রাতুল, রাতুলের বাবা ফারুক আহমেদ ও রাতুলের মা বাগেরহাট মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকা ও বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট পারভীন আহেমদসহ সব আসামি পলাতক রয়েছে। তবে আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
বিডি প্রতিদিন/আল আমীন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর