২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:১১

আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রীর আত্মহত্যার হুমকিতে মামলা নিলেন ওসি!

বরগুনা প্রতিনিধি

আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রীর আত্মহত্যার হুমকিতে মামলা নিলেন ওসি!

ফাইল ছবি

বরগুনার পাথরঘাটায় একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীর জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকে ছড়িয়ে দিয়েছে একই ক্লাসের সহপাঠি নাঈম। ছাত্রী অভিভাকদের অভিযোগ, এ ঘটনায় শুক্রবার থানায় মামলা করতে গেলেও ওসি ভিকটিম ও তার মাকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে পরে যোগাযোগ করতে বলেন। বিচারে সহযোগীতা না পাওয়ায় আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিল ঐ ছাত্রী। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ঐ স্কুল ছাত্রীর মাকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা নিয়েছেন পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল বাশার। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার জানান, ঐ ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নাঈম ও সবুজকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন ২০২০ এর ১০ তৎসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৯(১)/৩৫ পাথরঘাটা থানায় মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং -২৭)।

জানা যায়, বখাটে নাঈম তার একই ক্লাসের সহপাঠী ওই মেয়েকে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে এক বছর আগে নাঈমের মামা ইউসুফ এর কাছে নালিশ করেও কোনো সমাধান পাননি ভুক্তভোগী পরিবারটি। এরপরে গত বুধবার ঐ ছাত্রী ক্লাস শেষে গেট দিয়ে বের হবার সময় তাকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানি করে এবং একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় নাঈম। পরিকল্পিত এই ঘটনার মোবাইল ভিডিও ধারন করে অপর সহপাঠী সবুজ। ঐ ছাত্রীর মা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানালে তিনি বিচার করবেন বলে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। প্রধান শিক্ষক নাঈমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ব্যার্থ হওয়ার হন। পরে শুক্রবার রাত নয়টার দিকে পাথরঘাটা থানার গিয়ে বিষয়টি ওসি আবুল বাশারকে জানিয়ে মামলা করবেন বলে জানান ঐ ছাত্রী ও তার মা। ওসি দীর্ঘক্ষণ তাদের বসিয়ে রেখে পরে আসতে বলে পাঠিয়ে দেন। এরপর তিনি আবারও মামলা করার কথা জানালে ওসি তার ব্যক্তিগত কার্ড ধরিয়ে দিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলেন বলে জানান ছাত্রীর মা।

অভিযুক্ত নাঈম উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজির খাল গ্রামের সৌদি প্রবাসী সগির খানের ছেলে। সগীর খানের স্ত্রী ছেলে নাঈমকে নিয়ে পৌর শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি, মামলা নেওয়ার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আসামিকে ধরা। এজন্য ওই সময়ে মামলা নেওয়া হয়নি। তবে পরে মামলা নেওয়া হয়েছে। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল হোসেন সরকার জানান, শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নাঈম ও সবুজ এই দুইজনের নামে মামলাটি দায়ের করেছেন। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর