শিরোনাম
৪ নভেম্বর, ২০২১ ১৩:১৮

ইউপি নির্বাচন : নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৩০

নরসিংদী প্রতিনিধি

ইউপি নির্বাচন : নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৩০

নরসিংদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালীতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন। নির্বাচনে ইউপি সদস্য প্রার্থী আবু খায়ের গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার মেঘনা নদী বেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নের নেকজানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত ১০ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাহের নামে একব্যক্তিকে হাসপাতাল থেকে আটক করেছে পুলিশ। তবে হামলা-সংঘর্ষ ও হতাহতের জন্য পুলিশকে দায়ী করেছেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মামুন হাসান।

তার অভিযোগ, হামলা হতে পরে এই বিষয়টি পুলিশকে জানালেও পুলিশ আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি নেয়নি। এমনকি গত রাতে থানায় বসে অভিযোগ দিয়েছি। কোনো লাভ হয়নি। যার ফলে এতগুলো লোক মারা গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নরসিংদী পুলিশ। 

সংঘর্ষে নিহতরা হলেন- নেকজানপুর গ্রামের কটুমিয়ার ছেলে আমির হোসেন (৪৫), একই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে আশ্রাফুল (২২), আব্দুল মনু মিয়ার মেয়ে খুশি বেগম (৫০) ও অজ্ঞাত নামা আরও এক জন। এরা সবাই আলোকবালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর সমর্থক।

আহতরা হলেন- খায়রুল (২৮), বাদশা মিয়া (৩২), আবুল খায়ের (৪০), হানিফ (৪৫), আনিস মিয়া, আব্দুল লতিফ (৪৫), আহসানুল্লহ (২৬), শউকত মিয়া (২৪), আরিফ (২২), সনিয়া (১৭), মমিন আলী (৫৫), মাসুমা (২০), মকবুল হোসেন, আকাশ (১৪), জিয়াউর (৩৭), হাসেম (৪৮), মিজান ও বুলু (৫৫)। এরা সবাই দীপুর সমর্থক।

পুলিশ জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোকবালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর সমর্থক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ’র সাথে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দ্বন্দ্বের জেরেই গত ১০ দিন আগে এই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সর্বশেষ আলোকবালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পায় বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু।

নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আসাদুল্লাহ আসাদ। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আসাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের চাপে সে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয়। এনিয়ে এড. আসাদুল্লাহ সমর্থক মেম্বার প্রার্থী রিপন মোল্লা ও দীপু সমর্থক মেম্বার প্রার্থী আবু খায়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এরই জেরে বৃহস্পতিবার সকালে আসাদুল্লাহ’র সমর্থক রিপন মোল্লার সমর্থকরা সকালে টেঁটা বল্লম ও অস্ত্র নিয়ে নেকজানপুর গ্রামে দীপু চেয়ারম্যানের সমর্থক আবু খায়ের সমর্থকদের উপর সকালে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এসময় প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে অজ্ঞাত নামা আরও একজন মারা যায়।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ১০ জনসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ সকলকেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আলোকবালীর নেকজানপুর গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, আলোকবালীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দন্দ্ব চলছিল। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দন্দ্ব আরও প্রকট হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশ যাওয়ার আগেই তিন জন নিহত হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর