৮ নভেম্বর, ২০২১ ১৭:৩১

নরসিংদীর চরদিঘলদিতে গ্রাম ছাড়া ১২শ' পরিবার

সঞ্জিত সাহা, নরসিংদী

নরসিংদীর চরদিঘলদিতে গ্রাম ছাড়া ১২শ' পরিবার
নরসিংদীর আলোকবালী ও রায়পুরার পর দূর্গমচারঞ্চল চরদীগলদিতে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউপি নির্বাচনের সহিসংতায় দীর্ঘ হতে পারে লাশের মিছিল। রক্তাক্ত জনপদে রক্তপাতের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে এক শ্রেণির মানুষ। 
 
সম্প্রতি পৃথক কয়েকটি সংঘর্ষে ৮জন নিহতসহ দুই শতাধিক মানুষ আহত হলেও থামছে না এই নৈরাজ্য। বিশেষজ্ঞরা বলেছে, আধিপত্ব টিকিয়ে রাখাসহ নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই প্রতিপক্ষকে দমাতে রক্তপাতের নেশায় মেতে উঠেছে গ্রাম্যপতিরা। এরই মধ্যে সদরের চরদিঘলদীসহ একাধিক চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে টেঁটাসহ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
 
এদিকে সদর উপজেলার চরদিঘলদী ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে চেয়ারম্যান সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের ১২০০ পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ এনে সুষ্ঠ ভোটের দাবিতে সদর আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম (বীর প্রতিক), নরসিংদী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার উপ-পরিচালক, ডিজিএফআই,  নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও র‌্যাব -১১ দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন। 
 
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন, আগামী ১১ নভেম্বর আসন্ন চরদিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন আওয়ামী লীগের ৩ নেতা। পরে নৌকার দলীয় মনোনয়ন পায় দেলোয়ার হোসেন শাহীন। এতে নাখোশ হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এরই ফলশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ থেকে আরও তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। এরই মধ্যে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে নৌকার প্রতিকের প্রার্থী শক্তি বৃদ্ধি করতে চরদিঘলদী ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ও বিগত নির্বাচনে ধানের শীষের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনুস ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীদের সাথে সাথে হাত মেলায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮/১০/২০২১ ইং তারিখে টেঁটা বল্লম আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র ও সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বাড়িতে হামলা চালায়। ওই সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর করে। পরে চরদিঘলদী ইউনিয়নের নৌকা মার্কার বর্তমান চেয়ারম্যান মনসুর, ৩ স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী সহ ৬টি ওয়ার্ডের নির্বাচিত মেম্বার ও ৬টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ  প্রায় ১২০০ আওয়ামী পরিবারকে এলাকাছাড়া করেছে।
 
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল জলিল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আমাদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা করে আমার সমর্থকদের পেটাচ্ছে। এমনকি আমাদের গ্রামের প্রায় ১২শ' পরিবারকে সে গ্রাম ছাড়া করেছে। আমরা গ্রামে ফিরে নিজের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চাই।
 
ইউপ প্রার্থী সাইদ মিয়া বলেন, আমি নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর সময় নৌকার প্রার্থী শাহিনের লোকজন আমার উপর হামলা চালায়। ওই সময় তারা আমার চাচাতো ভাইয়ের উপর হামলা চালিয়ে তার চোখে উপড়ে ফেলে। শরীরের কয়েক জায়গায় টেঁটা বিধিয়ে দেয়। এখন সে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধিন আছে। আমি এর বিচার চাই।
 
বর্তমান ইউপি সদস্য মুশিদুল হক সরকার বলেন, নৌকা প্রতিকের প্রার্থী শক্তি বৃদ্ধি করতে চরদিঘলদী ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীদের সাথে সাথে হাত মেলায়। পরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা দেয়া সহ তাদের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে এলাকা ছাড়া করে।
 
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহেদ আহমেদ বলেন, সহিংসতা রোধে চরদিঘলদী অভিযান চালিয়ে থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও শতাধিক টেঁটা উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের জন্য প্রতিদিন পুলিশের বিভিন্ন অভিযান চলছে। এছাড়া গত কয়েক মাসে আট থেকে দশটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় সদরের করিমপুর এবং নজরপুরে সংঘাত কমেছে। বিগত আড়াই বছরে কোন বড় ধরনের সংঘর্ষ বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের মানসিকাতার বিকাশ ঘটাতে হবে। আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করতে হবে। তবেই টেঁটা যুদ্ধ বন্ধ হবে।
 
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর