১ আগস্ট, ২০২২ ২১:৪৫

গৃহবধূকে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি

গৃহবধূকে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে তার দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে ভিডিও ধারণ করে লুটপাট চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় দুর্বৃত্তরা ভুক্তভোগী গৃহবধূর ঘর থেকে নগদ ৮ হাজার টাকা ও গোয়াল ঘর থেকে একটি গরু, ৩টি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। 

এদিকে আজ বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। গত সোমবার (২৬ জুলাই) রাতে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৬দিন অতিবাহিত হলেও ভয়ে ভুক্তভোগী দরিদ্র পরিবারটি বাড়ি থেকে বের হয়ে মামলা করতে পারেনি। পরিবারটি আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। ভয়ে মুখ খুলে কাউকে কিছু বলতে পারছে না।      

অভিযুক্তরা হলো, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই আবু বক্কর ছিদ্দিক তানভির (৩২), একই ওয়ার্ডের অজি উল্যাহ দপ্তরী বাড়ির অজি উল্যার ছেলে ওমর ফারুক (৩২), সুরুজ মিয়ার ছেলে রাজন (৩০) ও আজু মিয়ার বাড়ির নজির বেপারীর ছেলে আলতাফ (২৫)।    

ভুক্তভোগী গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, গত ২৬ জুলাই রাত ১১টার দিকে তিনি তার পরিবারের সকল সদস্যসহ সবাই ঘরে ছিলেন। ওই সময় তিনি তার দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন চরএলাহী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের তানভির, ফারুক, রাজন, আলতাফ ও তাদের সহযোগীরা আমার বসত ঘরের দরজায় লাথি মারে। তাৎক্ষণিক আমি দরজা খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করে আমার স্বামী কামালকে বেধড়ক মারধর করে পকেট থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা, আমার বিছানার নিচ থেকে ৩ হাজার হাজার টাকা ও ৩টি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এরপর পুনরায় আমার স্বামী কামালকে মারধর করে হামলাকারীরা ২ লাখ টাকা দাবি করে। শেষে ২ লাখ টাকা দিতে না পারায় গোয়ালঘর থেকে আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরু লুট করে নিয়ে যায়। পরে তারা আমাকে এবং আমার স্বামীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। একপর্যায়ে আমার দুই মেয়েকে তারা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বর্তমানে তারা আতঙ্কে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবু বক্কর ছিদ্দিক তানভির বলেন, ওই নারী সেখানে দুইজন স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছে। তবে তিনি ভিডিও ধারণ, টাকা, মোবাইল এবং গরু লুটের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন।   

এ বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় জানতে চাইলে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই নারীর দুই স্বামী রয়েছে, প্রথম স্বামীর সাথে মারামারি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিয়ে না করে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে থাকছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় মেম্বারসহ এলাকার কিছু সংখ্যক লোক তাকে মারধর করেছে, তবে বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করা হয়নি। 

এদিকে সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমরা তাকে থানায় এনে প্রকৃত ঘটনা জানবো এবং সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর