শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:৩২

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ফসলের বেশি ক্ষতি ভোলা ও পটুয়াখালীতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ফসলের বেশি ক্ষতি ভোলা ও পটুয়াখালীতে

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বরিশাল বিভাগে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭শ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বিনষ্ট হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ২৭ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজী, ১ হাজার ৮শ’ ৬৮ হেক্টর জমির খেসারী, ৬১৬ হেক্টর জমির পানের বরজ, ৩৯৮ হেক্টর জমির কলাগাছ এবং ৪০৩ হেক্টর জমির পেঁপে গাছ পুরোপুরি বিনষ্ট হয়েছে। 

ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়ে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ওইসব স্কুলের ক্লাশ, বার্ষিক পরীক্ষা এবং আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

এই ঘূর্ণিঝড়ে বরিশাল বিভাগে সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পটুয়াখালী এবং ভোলা জেলায়। এছাড়া বিভাগের অন্যান্য জেলায়ও কৃষি এবং অবকাঠামোর কম-বেশি ক্ষতি হয়েছে। 

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বরিশাল বিভাগে ৭ লাখ ১৪ হাজার ৭২০ হেক্টর জমির রোপা আমনের মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমির রোপা আমন পুরোপুরি বিনষ্ট হয়েছে। এছাড়া ৮ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজীর মধ্যে ৩ হাজার ২৭ হেক্টর, ১ হাজার ৮শ’ ৬৮ হেক্টর জমির খেসারী, ৪ হাজার ১৩৮ হেক্টর জমির পান বরজের মধ্যে ৬১৬ হেক্টর বরজ, ২ হাজার ৬শ’১ হেক্টর কলাগাছের মধ্যে ৩৯৮ হেক্টর জমির কলাগাছ, ৯৮৭ হেক্টর পেঁপে ক্ষেতের মধ্যে ৪০৩ হেক্টর জমির কলা গাছ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। 

ঘূর্ণিঝড়ে বরিশাল বিভাগের সব চেয়ে ক্ষতি হয়েছে ভোলা ও পটুয়াখালী জেলায়। ভোলায় ১ লাখ  ৭৯ হাজার ২৮০ হেক্টর জমির রোপা আমনের মধ্যে ৫৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমির রোপা আমন, ২ হাজার ৭শ’ ৪২ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজীর মধ্যে ৭৪২ হেক্টর জমির সবজী, ৫১৮ হেক্টর জমির খেসারী, ৫৩৮ হেক্টর জমির পান বরজের মধ্যে ৫৪ হেক্টর জমির পান বরজ এবং পটুয়াখালীতে ২ লাখ ২ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমির রোপা আমনের মধ্যে ৫৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমির ধান, ৬শ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজীর মধ্যে ১৮০ হেক্টর জমির সবজী এবং বির্স্তির্ন জমির খেসারী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হরিদাস শিকারী জানান, বরিশাল জেলায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৩৩ হেক্টর জমির রোপা আমনের মধ্যে ৬২ হাজার ৩শ হেক্টর জমির ধান, ২ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমি মধ্যে ৯শ’ ৮০ হেক্টর জমির সবজী, ১ হাজার ৩শ’ ৫০ হেক্টর জমির খেসারী, ৪৬৬ হেক্টর জমির কলাগাছের মধ্যে ৭০ হেক্টর জমির কলাগাছ, ৪৬৭ হেক্টর জমির পেঁপের মধ্যে ৭১ হেক্টর জমির পেঁপে এবং ২ হাজার ৬শ’ ৮২ হেক্টর জমির পান বরজের মধ্যে ৫শ’ ৩৬ হেক্টর জমির পান বরজ বিনষ্ট হয়েছে। 

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, কৃষকদের প্রণোদনা কার্যক্রম চলছে। চাষিদের মাঠে ধরে রাখতে ও চাষাবাদে উৎসাহিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রণোদনা কার্যক্রমের মধ্যে এবার যারা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য