Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০১

ধর্মতত্ত্ব

যেভাবে আজানের উদ্ভব

যেভাবে আজানের উদ্ভব

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী প্রকাশ্যে বিশ্ববাসীকে নামাজের জন্য আহ্বান করা বিপজ্জনক ছিল বলে মুসলমানদের প্রথম দিকে গোপনে নামাজে ডাকা হতো। মদিনায় আগমনের পর রসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্বে একটি সভা আহ্বান করা হলো। সে সভায় এ সম্পর্কে নানা প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলো, কিন্তু একটিও হজরতের মনঃপূত হলো না। এ সময়ে ওমর (রা.) হজরতকে বললেন, তিনি স্বপ্নে দেখেছেন, কে যেন তাকে আজানের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা দিচ্ছেন। হজরত যুক্তিতর্কের সাহায্যে আজানের তত্ত্ব উপলব্ধি করে তা গ্রহণ করলেন এবং তখন থেকে ইসলামী দুনিয়ায় আজানের রীতি প্রবর্তিত হলো। হাবশি মুসলমান হজরত বিলাল সর্বপ্রথম মুয়াজ্জিন নিযুক্ত হয়ে মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য আজান দিয়ে আহ্বান করলেন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং নামাজের আগে ওজুর রীতিও প্রবর্তিত হলো। প্রত্যেক শুক্রবার দুপুরবেলা মুসলমানদের সংঘবদ্ধ হয়ে নামাজ পড়ার প্রথা ধারাবাহিক রূপ পরিগ্রহ করল (প্রথম হিজরি, ৬২২ খ্রি.)।

জেরুজালেম প্রথমে মুসলমানদের কিবলা ছিল, কিন্তু রসুলুল্লাহ (সা.) উপলব্ধি করেন যে, ইসলাম ইহুদি ধর্মের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে পারে না। তখন তিনি মক্কার কাবাঘরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ার আদেশপ্রাপ্ত হন। (হে নবী!) তুমি নিজের মুখ মসজিদে হারামের (কাবার) দিকে ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক না কেন সেদিকেই নিজেদের মুখ ফেরাবে। সে সময় থেকেই জেরুজালেমের পরিবর্তে কাবা ইসলামের কিবলা হলো। এ ঘটনা দ্বিতীয় হিজরিতে (৬২৩ খ্রি.) সংঘটিত হয়। ইতিহাসবিদ আর্নল্ডের মতে, কিবলার পরিবর্তন ইসলামের জাতীয় জীবনে প্রথম পদক্ষেপ। এটা মক্কার কাবাঘরকে সমগ্র মুসলিম জাতির ধর্মীয় কেন্দ্রস্থলে পরিণত করে।

ইহুদিরা তাদের ধর্মপুস্তক তাওরাতে একজন মহানবীর আগমন সম্পর্কে জানতে পেরেছিল। সুতরাং যখন হজরত মদিনায় এলেন, তখন তারা তাকে প্রতিশ্রুত নবী বলে স্বীকার করল। কিন্তু সত্বরই তারা হিংসা ও ধর্মান্ধতার বশবর্তী হয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে লাগল এবং শত্রুতায় লিপ্ত হলো। হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় এসে ইহুদি ধর্মবিধির সঙ্গে ইসলামের ঐক্য স্থাপনের জন্য ইহুদিদের উপবাস প্রথা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু যখন ইহুদি ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তখন তিনি তাদের উপবাস প্রথার পরিবর্তে আল্লাহর কাছে নিজেদের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থনা জানালেন।

দেড় বছর পর (৬২৩ খ্রি.) আল্লাহর আদেশ হলো, রমজান মাসে রোজা রাখতে হবে। তখন থেকে রমজান মাসে রোজা পালন মুসলমানদের জন্য ফরজ বলে বিবেচিত হচ্ছে। পরবর্তী মাসের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে রোজা শেষ এবং পরদিন ‘ঈদুল ফিতর’ নামে ধর্মীয় মহোৎসব উদ্যাপিত হয়। এর প্রায় আড়াই মাস পর (জিলহজ মাসে) হজ করার কথাও ঘোষিত হয়। এ সময় ‘ঈদুল আজহা’ নামে আর একটি উৎসব প্রবর্তিত হয়। এ হিজরিতে রসুলুল্লাহ (সা.) জাকাত সম্পর্কেও প্রত্যাদেশ লাভ করেন। বিখ্যাত অভিধান রচয়িতা রাগিবের মতে, জাকাত হলো ধনীর কাছ থেকে গৃহীত দরিদ্রকে প্রদত্ত অর্থ।

—শাকিল জাহান


আপনার মন্তব্য