শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৭ ২২:৫০

জান্নাতি হতে হলে হিংসা ও পরশ্রীকাতরতা থেকে দূরে থাকতে হবে

মাওলানা আবদুর রশিদ

হিংসা এবং পরশ্রীকাতরতা ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনা হিসেবে বিবেচিত। যারা এ গুনা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে তারা আখিরাতের জীবনে পুরস্কৃত হবে। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, আমরা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে বসা ছিলাম। তিনি বললেন, একজন বেহেশতি লোক এখনই তোমাদের কাছে আগমন করবে। এ সময় একজন আনসার এলেন। তার দাড়ি থেকে অজুর পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছিল। তার বাঁ হাতে ছিল নিজের জুতা। দ্বিতীয় দিনেও রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কথা বললেন। সেই আনসার দ্বিতীয় দিনও হাজির হলেন। তৃতীয় দিনেও রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কথা বললেন। সেই আনসার সেই অবস্থায় এলেন, যে অবস্থায় প্রথমবার এসেছিলেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মজলিস থেকে উঠলেন তখন আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) সেই আনসারকে অনুসরণ করলেন। তাকে বললেন, আমার পিতার সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়েছে, এ কারণে তিন দিন বাড়িতে যাব না বলে আমি কসম করেছি। আমাকে আপনার সঙ্গে তিন দিন থাকতে অনুমতি দিন, যদি আপনি ভালো মনে করেন। আনসার রাজি হলেন।

হজরত আনাস (রা.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বললেন, আমি সেই আনসারের সঙ্গে তিন রাত অতিবাহিত করেছি। রাতে তাকে কোনো ইবাদত করতে দেখিনি। তবে রাতে যখন চোখ খুলতেন এবং তিনি ঘুম থেকে জাগতেন, তখন আল্লাহর জিকির করতেন এবং আল্লাহু আকবার বলতেন। এভাবে ফজরের নামাজের জন্য শয্যা ত্যাগ করতেন। অন্য একটি বিষয় হচ্ছে, তার কাছ থেকে আমি ভালো ছাড়া মন্দ কিছু শুনিনি। তিন রাত কেটে যাওয়ার পর আমি সেই আনসারের আমল খুবই সাধারণ মনে করলাম। তারপর তাকে বললাম, শুনুন, প্রকৃতপক্ষে পিতার সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়নি। তবে আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমাদের কাছে এখনই একজন জান্নাতি লোকের আগমন ঘটবে। এই কথা বলার পর তিন দিনই আপনি এসেছেন। তারপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আপনার সঙ্গে অবস্থান করে আপনার বিশেষ আমল প্রত্যক্ষ করব। তারপর আপনার অনুসরণ করব। কিন্তু আপনাকে আমি তেমন কিছু আমল করতে দেখলাম না। এবার  আপনিই বলুন, কীভাবে আপনি এ রকমের উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত হয়েছেন যে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতি সার্টিফিকেট দিয়েছেন। সেই আনসার বললেন, আমার তো বিশেষ কোনো আমল নেই। তুমি যেসব আমল দেখছ শুধু তাই আছে। তবে একটা কথা এই যে, কোনো মুসলমান সম্পর্কে আমি মনে কোনো কুটিলতা পোষণ করি না। আল্লাহতায়ালা কাউকে কোনো বিশেষ নিয়ামত দান করলে আমি সেই কারণে তাকে হিংসা করি না। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, আমি বললাম, এটাই আপনার আমল। উল্লেখ্য, যে সাহাবি হাতে জুতা নিয়ে এসেছিলেন তার নাম সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)। সূত্র : মুসনাদে আহমাদ।

লেখক : ইসলামী গবেষক।


আপনার মন্তব্য