শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:৪১

দুদকের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম

দুর্নীতি রোধে অবদান রাখুক

দুদকের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরেশোরে লড়াইয়ের প্রত্যয় নিয়ে সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি রোধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আপাতত ১৫টি সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানকে ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় আনা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, বিআরটিএ, হাসপাতাল, এজি, ভূমি, তিতাস, ওয়াসা ও বিদ্যুতের মতো সরকারি সংস্থাগুলো। দুদকে স্থাপিত হটলাইন সেবা ১০৬-এ অভিযোগ করা হলেই তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে এটি চালু করা হয়েছে। স্মর্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিতে গত ২৭ জুলাই চালু করা হয় তিন ডিজিটের হটলাইন ১০৬ সেবা কার্যক্রম। এতে ৮০ দিনে টেলিফোন কলের মাধ্যমে দুই লাখ ১০ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে বাছাইপর্বে সিংহভাগ অভিযোগই বাতিল হয়েছে। কিছু কিছু অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে তাত্ক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাক্ষ্য ও আলামত সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে দুদক এই নতুন কর্মসূচিটি হাতে নিয়েছে। দুদকের এ নতুন উদ্যোগ ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে এমনটিও আশা করা হচ্ছে। অনস্বীকার্য যে, দুর্নীতি এ মুহূর্তে একটি জাতীয় সমস্যা। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করা বাংলাদেশের গর্বিত ভাবমূর্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে দুর্নীতির নোংরা কীটরা। দুর্নীতি অসততা দেশের ১৬ কোটি মানুষের সব অর্জনকে গিলে খাচ্ছে নৃশংসভাবে। ব্যাংকিং খাত ফোকলা হয়ে যাচ্ছে দুর্নীতির বরপুত্রদের হাতে। জনগণের সঞ্চিত অর্থ গিলে খাচ্ছে লুটেরারা। দেশের স্বাস্থ্য খাতে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও লুটেরাদের কারণে তার সুফল অনেকাংশে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা খাতের দুর্নীতিও জাতির বিবেককে প্রতিনিয়ত আহত করছে। প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখলেও এ আয়ের কারিগররা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দুর্নীতিবাজদের হাতে। জনশক্তি রপ্তানিতে দুর্নীতি আকাশ ছুঁয়েছে বহু আগেই। পাসপোর্ট করতে গিয়ে উেকাচ না দিলে কাজ হয় না এটি একটি ওপেন সিক্রেট।  দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের সর্বশেষ উদ্যোগ দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এ উদ্দেশ্যে প্রতিটি সরকারি অফিসের সামনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যসংবলিত বিলবোর্ড স্থাপন করে সেবাগ্রহণকারীদের সচেতন করা যেতে পারে। উেকাচ দাবি বা প্রাপ্য সেবা দিতে টালবাহানার আশ্রয় নিলে দুর্নীতি দমন কমিশনের হটলাইনে অভিযোগ করলে যে বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে আমলে নেওয়া হবে— তা  জানলে দুর্নীতিবাজরাও নিজেদের সামাল দিতে বাধ্য হবে।


আপনার মন্তব্য