শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:৩৪

আরও দুটি চামড়াশিল্প নগরী

কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে

আরও দুটি চামড়াশিল্প নগরী

গার্মেন্টের পর চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানিকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সামনে সোনালি সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। এ মুহূর্তে চামড়াজাত পণ্যের বৈশ্বিক বাজার ২২ হাজার কোটি ডলারের। এ বাজারের এক বৃহত্তম শরিক চীন। তবে চীনে মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের সামনে চামড়াশিল্পে নিজেদের অবস্থান জোরদার করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশে চামড়াশিল্প বিকাশের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। প্রথমত, এ শিল্পের মূল উপাদান চামড়া উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে শ্রমের মূল্য এখনো কম। তৃতীয়ত, মানসম্মত চামড়াপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান সামনের কাতারে। চতুর্থত, শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধাও বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। আশার কথা, বৈশ্বিক বাজারে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা সামনে রেখে সরকার ইতিমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু করেছে। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বৃহস্পতিবার তিন দিনব্যাপী চামড়াপণ্য প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চামড়াশিল্পের উন্নয়নে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে আরও দুটি চামড়াশিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী চামড়াশিল্প খাতের উন্নয়নে চামড়া, পাদুকাসহ চামড়াজাত পণ্যকে ২০১৭ সালের ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণাও করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত শ্রমঘন এই শিল্প বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছে। এ শিল্পের প্রায় শতভাগ কাঁচামাল দেশেই উৎপাদিত হয়। সরকারের আর্থিক ও নীতিসহায়তা কাজে লাগানোয় এখন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় আসছে এ খাত থেকে। চামড়াসহ দেশীয় পণ্যের মানোন্নয়নে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ এতে রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, বাজার বড় হবে। নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করারও তাগিদ দেন তিনি। রাজশাহী ও চট্টগ্রামে আরও দুটি চামড়াশিল্প নগরী প্রতিষ্ঠা হলে প্রক্রিয়াজাতের অভাবে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে। বন্ধ হবে চামড়া চোরাচালান। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা রাজশাহী ও চট্টগ্রামে চামড়াপণ্যের শিল্প স্থাপনে উৎসাহী হবেন। দেশের অর্থনীতির জন্য যা আশীর্বাদ বলে বিবেচিত হবে।


আপনার মন্তব্য