শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:৩১

বেহাল সেবা খাত

এ অবস্থার অবসান কাম্য

Google News

দেশের সেবা খাতগুলো থেকে সেবা উধাও হয়ে যাচ্ছে ক্রমান্বয়ে। সেবার বদলে বাণিজ্য প্রাধান্য পাচ্ছে প্রতিটি ক্ষেত্রে। নিষ্ঠুর হলেও সত্যি বাণিজ্যের প্রথাসিদ্ধ নিয়মকানুনও সেবা খাতগুলোতে অনুপস্থিত। চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে মানুষ প্রতিনিয়তই প্রতারণার শিকার হচ্ছে। দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার চিকিৎসক সৃষ্টি হলেও আস্থার জায়গা গড়ে উঠছে না। অন্যান্য সেবা খাতের অবস্থাও তথৈবচ। পরিবহন সেবার সরকারি খাতগুলো দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বেসরকারি খাতের বাস কোম্পানিগুলো ফুলেফেঁপে মুনাফা বৃদ্ধি করে চললেও বিআরটিসি তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। দেশবাসীর ট্যাক্সের টাকার অপচয় ছাড়া রাষ্ট্রীয় সংস্থা এ যাবৎ কোনো কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারছে না। আরব্য রজনীর বাগদাদের চোররা এ সংস্থার প্রতিটি স্তরে অবস্থান নেওয়ায় গ্রাহকসেবার বদলে আত্মসেবা প্রায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সব বেসরকারি টেলিকমিউনিকেশন সংস্থা দাপটের সঙ্গে ব্যবসা বাড়িয়ে চললেও গ্রাহকরা যেন বিটিসিএলের সার্ভিস ছাড়তে পারলেই বাঁচে। দেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে লজ্জাজনক ব্যর্থতার নজির রাখলেও সোনা চোরাচালানিদের নির্ভরযোগ্য পরিবহন হিসেবে নাম কিনেছে। বিদেশ থেকে দেশে সোনা ও হীরা আমদানি না হলেও বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের বদান্যতায় মণকে মণ সোনার গহনার পসরা শোভা পাচ্ছে জুয়েলার্সগুলোতে। এক সময় ডাকবিভাগের সেবার সুনাম ছিল দেশজুড়ে। আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতেন এ বিভাগের কর্মীরা। কিন্তু অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে ডাকবিভাগ এখন অস্তিত্ব হারানোর পথে। সরকারিভাবে পরিচালিত সেবা খাতগুলোর হতশ্রী অবস্থার জন্য দায়ী দুর্নীতি ও অসততা। ‘এলোমেলো করে দে মা লুটেপুটে খাই’ তত্ত্বের অনুসারী সরকারি সেবা খাতের সিংহভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী। সব প্রতিষ্ঠানে ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী থাকলেও তারা কোণঠাসা অবস্থায়। সরকারি খাতের সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের পেছনে জনগণের ট্যাক্সের টাকার যে অপচয় ঘটছে তা কাম্য হওয়া উচিত নয়। বেসরকারি সেবার ক্ষেত্রে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফাভিত্তিক মনোভাব সততার সংকট সৃষ্টি করছে। মানুষের জীবন-মরণ নিয়ে চলছে অশোভন খেলা। যা বন্ধ হওয়া দরকার।