Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪১

স্মৃতির পাতায় আশুরা

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

স্মৃতির পাতায় আশুরা

পবিত্র আশুরা বা ১০ মহররম, পৃথিবীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। শুধু উম্মতে মুহাম্মদীই নয়, এই দিন ও এই মাসের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বহু নবী-রসুলের। হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল থেকে শুরু করে হজরত নুহ (আ.)-এর মহাপ্লাবন থেকে মুক্ত হয়ে প্রথম মাটিতে নামা ও তার শুকরিয়ায় রোজা রাখাও এ দিনেই হয়েছিল। তাফসিরে বায়জাভি ৩/১৩৬। এ ছাড়া এ দিনে মহান আল্লাহ ইউনুস (আ.)-এর কওমের তওবা কবুল করেছিলেন। তাফসিরে বাগভি ২/৪৩৫। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে হজরত মুসা (আ.)-এর সঙ্গে ফেরাউনের জাদুকরদের মোকাবিলাও হয়েছিল এই দিনে।

কিন্তু আমাদের এ অঞ্চলের কিছু কিছু মানুষের ধারণা, আশুরা বলতে শুধু রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কলিজার টুকরা হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত ও নবী পরিবারের কয়েকজন সদস্যের রক্তে রঞ্জিত ইতিহাসকে বোঝানো হয়। অথচ মূল ঘটনা শুধু এটি নয়। শুধু এ ঘটনার কারণেই আশুরা ফজিলতপূর্ণ নয়।

এটা সত্য, ৬১ হিজরিতে ঘটে যাওয়া কারবালার ঘটনা মুসলিম জাতির জন্য মর্মান্তিক ও বেদনার। তবে এ দিনে মুসলিম জাতির কর্মসূচি কী হবে, তা ঠিক করে গেছেন খোদ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন তিনি মদিনাবাসীকে এমনভাবে পেলেন যে, তারা এক দিন সওম পালন করে অর্থাৎ সে দিনটি হলো আশুরার দিন। তারা বলল, এটি একটি মহান দিবস। এটি এমন দিন যে দিনে আল্লাহ মুসা (আ.)-কে নাজাত দিয়েছেন এবং ফেরাউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর মুসা (আ.) শুকরিয়া হিসেবে এদিন সওম পালন করেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের তুলনায় আমি হলাম মুসা (আ.)-এর অধিক নিকটবর্তী। কাজেই তিনি নিজেও এদিন সওম পালন করেন এবং এদিন সওম পালনের নির্দেশ দেন। বুখারি। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কিছু কিছু দেশে এ দিনটিকে শুধু কারবালার দিন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কেউ কেউ কারবালা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল, মাতম মর্সিয়া করে; যার কোনো ভিত্তি কোরআন-হাদিসে নেই। বরং এ ধরনের কর্মকা- থেকে বিরত থাকতে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক নির্দেশনা রয়েছে। সুরা হাশরের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘রসুল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, মৃত ব্যক্তির শোকে বুক চাপড়ানো, মর্সিয়া-মাতম করা বা মৃত্যু দিবস পালন করা হারাম। ইসলামে এর কোনো ভিত্তি নেই। তাহলে কীসের ভিত্তিতে আমরা এই দিনটিকে শুধু কারবালার দিন হিসেবে ফলাও এবং ওইদিন অনুষ্ঠিত ভিত্তিহীন কার্যকলাপগুলো প্রচার করি? কারবালার ইতিহাস প্রতিটি মুসলমানের জন্য অবশ্যই বেদনার, শোকের। তবে সেই বেদনার বহিঃপ্রকাশ অবশ্যই রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পদ্ধতিতে করতে হবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক


আপনার মন্তব্য